পৃথিবীর কাছ ঘেঁষে যাচ্ছে দানব গ্রহাণু ‘অ্যাপোফিস’, ধাক্কা লাগলেই সর্বনাশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাপোফিস গ্রহাণু নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে গত বছর থেকেই। দৈত্যাকার এই অ্যাস্টেরয়েড তথা গ্রহাণু পৃথিবীর ধারেকাছে চলে এসেছে। গতকাল থেকে আজ রাত অবধি সময়। পৃথিবীর কাছ ঘেঁষে বেরিয়ে যাচ্ছে অ্যাপোফিস। সামান্য টক্কর লাগলেই বিপদ। বায়ুমণ্ডল ভেদ করে আছড়ে পড়বে পৃথিবীর মাটিতে। প্রচণ্ড সংঘর্ষ হবে। যতক্ষণ না অ্যাপোফিস চুপচাপ কোনও ঝামেলা না করে পেরিয়ে যাচ্ছে, স্বস্তি নেই বিজ্ঞানীদের।

পৃথিবী থেকে অ্যাপোফিসের দূরত্ব ১০ মিলিয়ন মাইলের মতো। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদ থেকে পৃথিবীর দূরত্ব যতটা, তার চেয়ে ৪৪ গুণ বেশি দূরত্ব দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে অ্যাপোফিস। কিন্তু যদি কোনওভাবে দূরত্ব কমে তার সঙ্গে পৃথিবীর টক্কর লাগে, তাহলেই সর্বনাশ। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলো জ্বলেপুড়ে যাবে। গ্রহাণু টুকরো ছিটকে পৃথিবীতে এসে পড়বে। কাজেই এখন অ্যাপোফিসের দিকে সতর্ক নজর রেখে টেলিস্কোপ তাক করে বসে আছেন বিজ্ঞানীরা।


দানব গ্রহাণু, নামকরণ হয়েছে মিশরীয় রাক্ষসের নামে

অ্যাপোফিস আকারে আয়তনে ১০০০ ফুট (৩০০ মিটার) । ২০০৪ সালে প্রথম এই গ্রহাণু নজরে পড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের। ৯৯৯৪২ অ্যাপোফিসকে বলা হচ্ছে নিয়ার-আর্থ অ্যাস্টরয়েড। ২০০৫ সালে রেডার অ্যাস্ট্রোনমি এই গ্রহাণুর কক্ষপথের হিসেব কষে। গ্রিক ভাষায় এই গ্রহাণুর নাম অ্যাপেপ। এর অর্থ হল মিশরীয় সূর্য-দেবতা রা-এর শত্রু। এমন এক দানব যা অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়, রাতের সময় সূর্যকে গিলে খায়। পেল্লায় গ্রহাণু অ্যাপোফিস ঠিক এই দানবের মতোই, তাই এমন নামকরণ।

আরও পড়ুন: গ্রহাণুতে গুপ্তধন! রুক্ষ পাথর নয় তাল তাল সোনা, প্ল্যাটিনাম আছে ‘সাইকি’তে, ঢুঁ মারবে নাসা

এখন পৃথিবীর কাছ ঘেঁষে বেরিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, তবে ফিরে আসবে আট বছর পরে ২০২৯ সালে। সেই সময় পৃথিবীর সঙ্গে টক্কর লাগার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৯ সালে অ্যাপোফিস যখন ফিরে আসবে তখন পৃথিবীর ১৯ হাজার মাইলের (৩১ হাজার কিলোমিটার) মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ পৃথিবীর দূরের কক্ষপথের কাছ দিয়ে বেরিয়ে যাবে অ্যাপোফিস। পৃথিবীর কক্ষপথে বসানো আছে একাধিক স্যাটেলাইট। গ্রহাণু ধাক্কা লাগলে সেগুলো ধ্বংস তো হবেই, যদি পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার উপক্রম হয় তাহলে প্রাণের ধ্বংস হওয়ারও সম্ভাবনা আছে।

Help Defend the Planet by Detecting Infamous Asteroid Apophis! - Unistellar

গ্রহাণুদের আসার বিরাম নেই। গত বছর ধরে দফায় দফায় গ্রহাণুরা পৃথিবীর আশপাশে ঘুরে গেছে। কেউ একেবারে কোল ঘেঁষে আবার কেউ একটু তফাৎ রেখে দূর দিয়ে। শেষ যে গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসেছিল সে ১৩ হাজার মাইল উপর দিয়ে উড়ে গেছে। এরপরেই এই নতুন গ্রহাণু আগমনের কথা শুনিয়েছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

এই তো কুড়ি সালের অক্টোবরের কথা। আমেরিকান স্পেস সেন্টারের নিয়ার আর্থ অবজেক্ট মিশনে ধরা দিয়েছিল গ্রহাণু ২০২০ আরকে২। আকারে আয়তনে বোয়িং-৭৪৭ বিমানের মতো। ভরও বেশি। ২০২০ আরকে২ অ্যাস্টেরয়েডের পরিধি ১১৮ থেকে ২৬৫ ফুট। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বেশিরভাগ গ্রহাণু মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝের কক্ষপথে ঘুরে বেড়ায়। সেখান থেকেই এর আগমন হয়েছিল কিনা সেটা জানা যায়নি।

Astronomie – L'astéroïde Apophis ne heurtera pas la Terre en 2036 | Tribune de Genève

পৃথিবীর উপর দিয়ে এর আগে উড়ে গেছে ছোটখাটো গাড়ির আকারের একটি গ্রহাণু। নাম ২০২০ কিউজি (2020 QG) । দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে একেবারে কাছ ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল ওই গ্রহাণু। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে হালকা সংঘাতের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল তবে নাসা জানিয়েছে, পৃথিবীর সঙ্গে ঘাতপ্রতিঘাতের পথে না গিয়ে সে শুধু মুখ দেখিয়ে চলে গেছে।

গত বছর জুলাই মাসেই ১০৮ ফুট পরিধির ২০২০ কেকে৭ গ্রহাণুটি পৃথিবীর একেবারে কাছ ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে। ১১৫ ফুট পরিধির ২০২০ কেডি৪ গ্রহাণুও পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে। তবে তাদের সঙ্গে পৃথিবীর সংঘাত হয়নি। ‘অ্যাস্টেরয়েড ২০২০ এনডি’ নামক গ্রহাণুও পৃথিবীকে তার মুখ দেখিয়ে গিয়েছে। নাসা জানিয়েছিল, এই গ্রহাণু নাকি আকারে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যশালী ‘লন্ডন আই’-এর থেকেও বিরাট। এর গতি ছিল ঘণ্টায় ৪৮ হাজার কিলোমিটার। ১৭০ মিটার লম্বা এই গ্রহাণুর থেকে পৃথিবীর দূরত্ব ছিল ০.০৩৪ অ্যান্ট্রনমিকাল ইউনিট অর্থাৎ প্রায় ৫০ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩২৮ কিলোমিটার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More