‘চূড়ান্ত বৈষম্যমূলক’, জি-৭ বৈঠকে ভ্যাকসিন পাসপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করল ভারত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার মাত্র তিন শতাংশের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে। ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু হলে ভারতীয়দের বিদেশ সফরে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে। জি-৭ বৈঠকে এমনটাই জানালেন ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। এ মাসেই ব্রিটেনে জি-৭ সম্মেলন হওয়ার কথা। তার আগে বিশ্বের সাত ধনী দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক বসেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। যোগ দিয়েছে কিছু অতিথি দেশও। অতি মহামারী ও ভ্যাকসিনের সমবন্টন নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা প্রসঙ্গে ভারতের তরফে হর্ষবর্ধন জানান, ভ্যাকসিন পাসপোর্ট উন্নত ও ধনী দেশগুলির জন্য ঠিক আছে। উন্নয়নশীল, গরিব ও পিছিয়ে পরা দেশগুলির জন্য নয়। ভ্যাকসিন পাসপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করে একে চূড়ান্ত বৈষম্যমূলক বলেও উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ বারের বৈঠকে রয়েছে ব্রিটেন, আমেরিকা, কানাডা, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিনিধিরা। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে ভারতকে ভার্চুয়ালি যোগ দিতে বলা হয়েছিল। ৩ ও ৪ তারিখ দুদিন ধরে হয়েছে বৈঠক। গতকাল শুক্রবারের বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেছেন, ভারতে এখনও সকলের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়নি। গোটা দেশকে ভ্যাকসিনের দুটি করে ডোজ দিতে অনেক সময় লাগবে। ভ্যাকসিনের উৎপাদন, বিতরণ ও টিকাকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে বিস্তর সময় লাগবে। এর মধ্যে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু হলে ভারতীয়দের বিদেশ সফর করতে হলে চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ধনী দেশগুলোতে টিকাকরণ জোরকদমে চলছে, অনেক দেশই দুটি করে টিকার ডোজ দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভারতের জনসংখ্যার কথাও মাথায় রাখা উচিত। তাছাড়া গরিব ও পিছিয়ে পরা দেশগুলোও ভ্যাকসিন পাসপোর্টের কারণে সমস্যায় পরবে বলেই মত হর্ষবর্ধনের।

ভ্যাকসিন পাসপোর্ট কী?  ‘ডিজিটাল গ্রিন সার্টিফিকেট’ বা ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ হল করোনা আবহে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার ছাড়পত্র। সহজ করে বললে, যারা নিজের দেশের বাইরে অন্য দেশে সফর করতে চান তাঁদের ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিতেই হবে। কোনও ব্যক্তি ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিয়েছেন কিনা তা বোঝা যাবে এই সার্টিফিকেট দেখে। এতে লেখা থাকবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কোভিড সংক্রান্ত ইতিবৃত্তান্ত। সেই ব্যক্তির কখনও করোনা হয়েছিল কি না, বর্তমানে সে করোনা-নেগেটিভ কি না, ভ্যাকসিন নিয়েছেন কি না, যাবতীয় সব। অতি মহামারী পরিস্থিতিতে স্বাধীন ও নিরাপদ পর্যটনের উদ্দেশেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

সরকারের উচ্চপদে বহাল রয়েছেন যাঁরা অথবা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ বা জীবীকার জন্য যাদের ঘন ঘন বিদেশ সফর করতে হয়, তাদের জন্য এই ভ্যাকসিন পাসপোর্ট প্রযোজ্য। তাছাড়া বিদেশে পর্যটন করতে হলেও ভ্যাকসিন পাসপোর্ট দেখাতে হবে বলেই নিয়ম চালু করার কথা ভাবা হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমস্ত শর্ত বজায় রেখে একটি প্রমাণপত্র তৈরি করা সহজ নয়। তাছাড়া আরও একটি সমস্যা হল, কোন ভ্যাকসিন নেওয়া হচ্ছে সেটাও লিখতে হবে প্রমাণপত্রে। আর সেই সব ভ্যাকসিনকেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে যাদের নাম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তালিকায় রয়েছে।

করোনা আবহে বিদেশ সফরের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে হু। বলা হয়েছে, কোন দেশ তাদের তৈরি ভ্যাকসিন নেওয়া হয়েছে কিনা সেটা দেখতে পারে, আর তা না হলে হু-র তালিকায় থাকা যে কোনও একটি ভ্যাকসিনের ডোজ সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা সেটা দেখবে। হু-র ইমার্জেন্সি ইউজ লিস্ট (ইইউএল)-এর তালিকায় যে ভ্যাকসিনগুলি রয়েছে তার মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড, মোডার্না, ফাইজার, অ্যাস্ট্রজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং চিনের সিনোফার্মের টিকার নাম রয়েছে। কিন্তু ভারতে তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার নাম নেই। অসুবিধা সেখানেও। দেশে যাঁরা কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়েছেন তাঁরা চাইলে এখনই বিদেশ সফর করতে পারবেন না। যতদিন না হু-র তালিকায় কোভ্যাক্সিন টিকার নাম ওঠে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More