নজরে চিন, ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারসাম্য রক্ষার অঙ্গীকার চার শক্তিধর রাষ্ট্রের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারও একার দখলদারি নয়। আন্তর্জাতিক আইন মেনে ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও ভারসাম্য রক্ষা করবে চার শক্তিধর রাষ্ট্র। প্রথমবার ইন্দো-প্যাসিফিকের সুস্থিতি রক্ষা করতে জোটবদ্ধ হল চতুর্দেশীয় অক্ষ তথা কোয়াডের চার দেশ ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। চিনের রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে চার দেশের একত্রিত হওয়াই ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কোয়াড বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ তুলেই জানানো হল, ইন্দো-প্যাসিফিক শুধু নয় বর্তমান দুনিয়া যেন শুধুমাত্র কয়েকটি রাষ্ট্রের মৌরসিপাট্টা না হয়ে যায়, সেদিকেও নজর রাখার দায়িত্ব কোয়াডের।

প্রেসিডেন্টের গদিতে বসার পরে জো বাইডেনের এটাই প্রথম বহুপাক্ষিক বৈঠক। বাইডেন বলেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পদক্ষেপ ভবিষ্যতমুখী। গোটা অঞ্চলে চিনের পেশী প্রদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতেতাঁর মন্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে সব দেশকেই উন্মুক্ত ও উদার ভাবনা রাখতে হবে। কোনও একদেশের আধিপত্য নয়, বরং সব দেশের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। কোয়াডের লক্ষ্য হবে সেদিকেই নজর দেওয়া।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত পরিধি বাড়ানোর জন্য সক্রিয় হবে চার দেশ। এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটি চিন-বিরোধী আঞ্চলিক অক্ষ জোরদার করতে ধাপে ধাপে সুর চড়িয়েছে নয়াদিল্লি।  কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরোদস্তুর এক সমুদ্রযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। যার ভূকৌশলগত কেন্দ্রে অবস্থানের কারণে ভারতের উপর ঝড়ঝাপটা আসার সম্ভাবনা প্রবল। তাই চিনের পাল্টা প্রতিরোধে আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো মহাশক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বেঁধেছে ভারত। অন্যদিকে, ফ্রান্স, রাশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিকেও পৃথক ভাবে নিজেদের সঙ্গে রাখতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। শুধু মাত্র কোয়াড নয়, প্রয়োজনে সমুদ্রপথে চিনের মোকাবিলার জন্য পৃথক জোট গঠনও লক্ষ্য ভারতের।

প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য নিয়ে সরব বিশ্বের অনেক দেশই। এই বিষয়ে গত এক বছরে ভারত অনেকটাই সক্রিয়তা বাড়িয়েছে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক ভাবে। বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত ভাবে চিন, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবং দক্ষিণ চিন সাগরে অন্য অনেক দেশেরই স্বার্থে আঘাত করছে, আন্তর্জাতিক আইন মানছে না, এই অভিযোগ আসিয়ান সদস্যদেশগুলি ছাড়াও আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমৃদ্ধি, মৈত্রী  ও স্থিতিশীলতা আনতে পারে চার গণতান্ত্রিক দেশই। এই মহাগোষ্ঠীই আগামী দিনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More