উত্তরপ্রদেশে তিন দলিত বোনের উপর অ্যাসিড হামলা, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের গোন্দা জেলায় তিন দলিত বোনের উপর অ্যাসিড হামলা হয়েছিল সোমবার গভীর রাতে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গতকাল সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হুজুরপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত যুবককে। তবে গ্রেফতারের আগে পালানোর চেষ্টা করেছিল সে। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে চোট পায় অভিযুক্ত। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

এএসপি মহেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পারাসপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অ্যাসিড জাতীয় রাসায়নিক নিয়ে তিন নাবালিকার উপর হামলা করেছিল সে। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তের নাম আশিস। তবে ছোটু নামেই সে বেশি পরিচিত। সোমবার রাতের ঘটনা জানার পর থেকেই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় হুজুরপুর এলাকায় অভিযুক্ত আশিসকে দেখা যায়। বাইকে চড়ে আসছিল সে। তবে পুলিশের জিপ দেখেই বাইক স্কিড করে পড়ে যায় সে। ধরা দেবে না বলে সটান গুলি চালায় পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। তখনই জখম হয় আশিস। তাকে গ্রেফতার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

অভিযুক্তের বাইক সিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও তার পিস্তল, গুলি সবকিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গোন্দা জেলার এসপিকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আহত নাবালিকাদের আর্থিক সাহায্য এবং সঠিক চিকিৎসা যাতে দেওয়া হয় সেদিকেও পুলিশকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

গতকাল জানা গিয়েছিল গোন্দা জেলার বাসিন্দা আক্রান্ত ওই তিন দলির বোনই নাবালিকা। কিশোরীদের বয়স যথাক্রমে ৮, ১২ এবং ১৭ বছর। সোমবার রাত আড়াইটে নাগাদ এই তিন কিশোরীর উপর হামলা হয়েছিল। সে সময় দোতলায় নিজেদের ঘরে ঘুমোচ্ছিল তারা। কোনওভাবে দোতলায় উঠে আসে আততায়ী। তারপর খোলা জানলা দিয়ে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। মুখে এবং বুকে গুরুতর চোট পায় বড় বোন। বাকিদের চোট ততটা গুরুতর ছিল না। গোন্দা জেলার এসপি শৈলেশ কুমার পাণ্ডে জানিয়েছন, বড় বোনের শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। বাকি দু’জনের মধ্যে একজনের ২০ শতাংশ অন্যজনের ৭ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। তিনজনকেই গোন্দার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাদের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More