মন্দিরে গিয়ে জিভ কাটলেন যুবক, গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মাহুতির চেষ্টা আর একজনের, উত্তরপ্রদেশের দুই রহস্যজনক ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবরাত্রির মধ্যে উত্তরপ্রদেশের দু’ জায়গায় ঘটেছে নির্মম দুই ঘটনা। কেবল কুসংস্কারের প্রভাবে নিজেদের মারাত্মক ক্ষতি করেছেন দুই যুবক। বাড়ির ছেলেদের এ হেন অদ্ভুত আচরণে হতবাক তাঁদের পরিবার। কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি যে কেবলমাত্র কুসংস্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে সমস্ত বুদ্ধি-বিবেচনা, জ্ঞান হারিয়ে এই দুই যুবক এমন কাণ্ড ঘটাবেন।

প্রথম ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বাবেরু এলাকায়। মন্দিরে গিয়ে ঈশ্বরের সামনে নিজের জিভ কেটেছেন ২২ বছরের এক যুবক। পুলিশ সূত্রে খবর বাবেরু এলাকার ভাটি গ্রামের বাসিন্দা এই যুবক। তাঁর নাম আত্মা রাম। শনিবার মন্দিরে গিয়েছিলেন তিনি। পুজো দেওয়ার পর আচমকাই ধারালো ছুরি দিয়ে নিজেই নিজের জিভ কেটে দেন ওই যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয়রাই হাসপাতালে নিয়ে যায়। জানা গিয়েছে, যুবকের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

বাবেরু এলাকার এসএইচও জয় শ্যাম শুক্লা জানিয়েছেন, মন্দিরে ভগবানকে জিভ উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন এই যুবক। তবে কার প্ররোচনায় এমন ভয়ানক কাণ্ড আত্মা রাম ঘটিয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সমস্ত সম্ভাবনা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মা রামকে যে  বা যারা এ হেন কাজ করতে বলেছিল তাদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে আহত যুবকের বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে মানসিক ভাবে স্থিতিশীল নয়। নবরাত্রিতে উপবাসও রেখেছিল সে। কিন্তু ছেলে এমন কাজ করবে তা তিনি ভাবেননি। ওই যুবকের বাবারও অভিযোগ কারও প্ররোচনাতেই এ হেন কাণ্ড ঘটিয়েছে তাঁর ছেলে।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের কুরারা এলাকায় একটি শিব মন্দিরে গিয়ে নিজেকে আহুতি দেওয়ার জন্য গলায় ছুরি চালিয়ে নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিলেন ৪৯ বছরের এক ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটেছে কুরারা এলাকার কোটেশ্বর মন্দিরে। আহত ব্যক্তির নাম রুক্মিণী মিশ্র। ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিলেন এই ব্যক্তি। তবে এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। মন্দির চত্বরে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান আশেপাশের লোকজন। আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

ইতিমধ্যেই এই সন্দেহজনক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কে বা কারা রুক্মিণীকে এমন প্ররোচনা দিয়েছিল তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। একই দিনে ঘটে যাওয়া উত্তরপ্রদেশের এই দুই রহস্যজনক ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুই আহতের পরিবারের সঙ্গেই কথাবার্তা বলছে তারা। আহত দু’জন সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের বয়ানও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More