কর্নাটক সীমান্তে ৩ দিন ধরে আটকে ছিল শ্রমিকের দল, জল-খাবার মেলেনি কিছুই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাত থেকে কর্নাটক ফিরেছিলেন অন্তত ৩০ জন শ্রমিকের একটি দল। লকডাউনের জেরে প্রায় ২ মাস তাঁরা আটকে ছিলেন আহমেদাবাদে। শেষ পর্যন্ত এসে পৌঁছন নিজের রাজ্যে।

কিন্তু কর্নাটকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি ওই শ্রমিকদের দলকে। কর্নাটক-মহারাষ্ট্র বর্ডারে প্রায় ৭২ ঘণ্টা আটকে ছিলেন শ্রমিকরা। জল-খাবার পাওয়া যায়নি কিছুই। বদলে কপালে পুলিশের দুর্ব্যবহার জুটেছে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত ২ টো নাগাদ কর্নাটকে প্রবেশ করার অনুমতি পায় শ্রমিকের দল। তার আগে অবশ্য কর্নাটকে উচ্চস্তরের নেতামন্ত্রীরা অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন। এমনকি হস্তক্ষেপ করেছেন বিরোধী দলের নেতা সিদ্দারামাইয়া। তারপর ভিনরাজ্যের এই শ্রমিকের দল কর্নাটকে ঢুকতে পেরেছে বলে খবর।

আরও পড়ুন- অভিবাসী শ্রমিকদের রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে গভীর ভাবে মর্মাহত, মিলবে সবরকম সহায়তা: প্রধানমন্ত্রী

গুজরাতের বাগালকোট জেলায় কাজের জন্য থাকতেন এই শ্রমিকরা। মাস দুয়েক ধরে আহমেদাবাদে আটকে ছিলেন জনা তিরিশ শ্রমিক। এমনকি ২০ দিন কোয়ারেন্টাইনেও থেকেছেন তাঁরা। তারপর ৪ মে থেকে নতুন করে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় আহমেদাবাদ প্রশাসন এই শ্রমিকের দলকে নিজের রাজ্য কর্নাটকে ফেরার অনুমতি দেয়। কিন্তু দক্ষিণের এই রাজ্যের সীমান্তে নিপ্পানি এলাকায় পৌঁছনোর পরেই পুলিশ এই শ্রমিকদের জোর করে আটকে দেয় বলে অভিযোগ। এমনকি গুজরাত সরকারের দেওয়া অনুমতিপত্র দেখালেও নিজের রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি পাননি শ্রমিকরা। এরপর অ্যাপের মাধ্যমে কর্নাটকে প্রবেশে জন্য আবেদন করতে গেলে তাতেও সুরাহা হয়নি। শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের জোর করে আটকে রেখেছিল এবং কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণও দেখাতে পারেনি।

এক শ্রমিকের কথায়, “পুলিশের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল আমরা দাগী অপরাধী। অথবা অন্য রাজ্যের বাসিন্দা কিংবা রিফিউজি যারা জোর করে কর্নাটকে ঢুকতে চাইছি। আমাদের মহারাষ্ট্রে কিংবা গুজরাতে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। এদিকে মারাঠা পুলিশ বলেছে যে, যেহেতু আমরা কন্নড় তাই কর্নাটকেই যাওয়া উচিত আমাদের। তিনদিন ধরে ফুটবলের মত শুধু এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে আমাদের।“

আর একজনের কথায়, “নূন্যতম খাবার আর জলও দেয়নি আমাদের। বিদেশে বন্দিদের সঙ্গেও বোধহয় এমন অমানবিক আচরণ করে না। সেখানে নিজের রাজ্যের পুলিশই এমন করেছে আমাদের সঙ্গে। তবে শেষ পর্যন্ত কয়েকজন নেতামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে রাত ২টো নাগাদ কর্নাটকে ঢুকতে পেরেছি আমরা। এখনা আমাদের আবার কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যদিও তাতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।“

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More