চুরির মোটরবাইক বিক্রির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রেতার খোঁজ, পুণেতে গ্রেফতার ২

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুরির মোটরবাইক কম দামে বিক্রির জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করল দুই চোর। প্রযুক্তির বিষয়ে ওয়াকিবহাল এমন চোরেদের হদিশ পাওয়া গিয়েছে পুণেতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নতিকে কাজে লাগিয়েছে এই দুই চোরও।

পুলিশ জানিয়েছে, মোটরবাইক চুরির ঘটনায় এই দুই চোর অনেকদিন ধরেই সিদ্ধহস্ত। মূল কাজ করে একজন। অন্যজন তার শাগরেদ। সম্প্রতি পুণের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ওই দুই চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলা থেকে দু’চাকার যান অর্থাৎ মোটরবাইক-স্কুটি ইত্যাদি চুরি করত ধৃতরা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হালফিলের কায়দার মোটরবাইকও নিমেষে হাপিশ করে দিত এই দু’জন। তারপর অন্যান্য রাজ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে চলতি বাইক বিক্রির পর্ব। মহারাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য রাজ্যের ক্রেতাদের নিশানা বানাত এরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম হেমন্ত রাজেন্দ্র ভাদানে এবং যোগেশ সুনীল ভামরে। দু’জনেরই বয়স ২৪ বছর। হেমন্ত নাসিকের এবং যোগেশ ধুলে জেলার বাসিন্দা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, পুণে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকা থেকে মোটরবাইক চুরি করত যোগেশ। এছাড়াও বিদ, ধুলে, আহমেদনগর এবং মারাঠা প্রদেশের অন্যান্য জেলাতেও চলত হেমন্ত এবং যোগেশের মোটরবাইক চুরির কারবার। যোগেশই ছিল পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড। আর হেমন্ত তার সঙ্গী।

বাইক চুরির পর্ব মিটলে শুরু হয় ক্রেতা ধরার পালা। খদ্দেরদের এই দুই যুবক বোঝাত যে সময়ে ঋণ মেটাতে না পারায় এইসব মোটরবাইক সিজ করেছে বিভিন্ন ফিনান্স কোম্পানি। শুধু তাই নয় বিক্রির পর মোটরবাইকের সমস্ত কাগজপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিত হেমন্ত এবং যোগেশ। তবে মোটরবাইক বিক্রির পর আর এই দুই যুবকের নাগাল পেতেন না ক্রেতারা। চুরির বাইক কিছুটা কম দামে বিক্রি করেও বিপুল লাভ হতো এই দুই যুবকের। পুলিশ জানিয়েছে, কমপক্ষে ১৪টি মোটরবাইক ইতিমধ্যেই ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে ছিল ১০টি বুলেট।

পুলিশ জানিয়েছে, থানে এবং নাসিক এই দুই জায়গায় হেমন্তের বিরুদ্ধে অন্তত ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর আগে একাধিকবার আটক হয়েছে সে। পুলিশ সূত্রে খবর, চুরির বাইক বিক্রির জন্য মূলত ফেসবুকে ক্রেতাদের টার্গেট করত হেমন্ত এবং যোগেশ। সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও চলত খোঁজখবর। বাইক বিক্রির পর টাকা হাতে পাওয়া মাত্রই ক্রেতাদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত এই দুই যুবক। বাইকের আসল কাগজপত্রের কোনও হদিশই পেতেন না ক্রেতারা। এমনকি প্রাথমিক ভাবে বুঝতেও পারতেন না যে এইসব মোটরবাইক আসলে চুরির জিনিস। পরে পুলিশ যখন  মোটরবাইকের আসল মালিকের চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামত তখনই সামনে আসত আসল তথ্য।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More