জরুরি ভিত্তিতে সায়, ব্রিটেনের পরে এই দেশে যাচ্ছে ফাইজারের টিকা

বাহরাইনের ন্যাশনাল হেলথ রেগুলেটরি অথরিটির সিইও মরিয়ম-আল-জালামা বলেছেন, ফাইজারের টিকা কেনা হবে কিনা সে নিয়ে এতদিন আলোচনা চলছিল। ফাইজার-বায়োএনটেকের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে টিকার পর্যাপ্ত ডোজ কেনা হয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনে পৌঁছে গেছে ফাইজারের ভ্যাকসিন। আগামী সপ্তাহ থেকেই গণহারে টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়ে দিয়েছে বরিস জনসন সরকার। ব্রিটেনের পরে দ্বিতীয় দেশ হল বাহরাইন যেখানে জরুরি ভিত্তিতে ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হতে পারে। ছাড়পত্র দিয়েছে সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

বাহরাইনের ন্যাশনাল হেলথ রেগুলেটরি অথরিটির সিইও মরিয়ম-আল-জালামা বলেছেন, ফাইজারের টিকা কেনা হবে কিনা সে নিয়ে এতদিন আলোচনা চলছিল। ফাইজার-বায়োএনটেকের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে টিকার পর্যাপ্ত ডোজ কেনা হয়েছে। আর কিছউদিনের মধ্যেই টিকা চলে আসবে দেশে। জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে।

বুধবার মার্কিন ফার্মা জায়ান্টের তৈরি করোনার প্রতিষেধকে জরুরি ভিত্তিতে ছাড়পত্র দেয় ব্রিটেন সরকার। এখনও অবধি জানা গেছে, টিকার প্রায় ৮ লক্ষের বেশি ডোজ পৌঁছে যাবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই। টিকা দেওয়াও শুরু হয়ে যাবে সঙ্গে সঙ্গেই।

জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানিয়েছে ফাইজার। মোডার্নার মতোই বার্তাবহ আরএনএ বা মেসেঞ্জার আরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে টিকা তৈরি করা হয়েছে। আরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম BNT162। এই ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়। অর্থাৎ টিকা শরীরে ঢুকলে করোনার স্পাইক প্রোটিনের নকল করবে। তখন দেহের ইমিউন কোষগুলি যথা বি-লিম্ফোসাইট কোষ ও টি-কোষ এর প্রতিরোধে সুরক্ষা কবচ তৈরি করবে। বি-কোষ বিভাজিত হয়ে প্লাজমা বা রক্তরসে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে এবং ঘাতক টি-কোষ সক্রিয় হয়ে সংক্রামিত কোষ সমেত ভাইরাসকে নির্মূল করবে।  এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন জার্মানির বায়োএনটেকের অধ্যাপক উগার সাহিন। তিনি বলেছেন, এই টিকার প্রভাবে শরীরে অ্যাডপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি হবে তা টিকে থাকবে বহুদিন।

ফাইজারের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে এখনও অবধি কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। সমস্যা তৈরি হয়েছে টিকার সংরক্ষণ নিয়ে। কারণ এই টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি বা মাইনাস ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখতে হয়, যে ব্যবস্থা অনেক দেশেই নেই। ব্রিটেন, বাহরাইন এই টিকা সংরক্ষণের মতো কোল্ড-চেন তৈরি করে ফেলেছে। সে দিক থেকে এখনও পিছিয়ে আছে ভারত। যদিও লুক্সেমবার্গের সংস্থা বি-মেডিক্যাল সিস্টেমের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে ভারতের। এই সংস্থা মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অবধি কোল্ড-চেনের ব্যবস্থা করতে পারে। তেমন পরিকাঠামো তারা তৈরি করতে পারলে হয়তো ফাইজারের টিকাও চলে আসতে পারে ভারতে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More