টিকা নিয়ে দুরন্ত সিদ্ধান্ত, করোনা ঠেকাতে ভারতের চেষ্টা বারে বারেই প্রমাণিত: বিল গেটস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসঙ্গে দু-দুটো ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। এতদিন, ব্রাজিল, আমেরিকায় টিকাকরণ শুরু হওয়ার পরে প্রশ্ন উঠেছিল, ভারতে কবে? নতুন বছর পড়তেই বিন্দুমাত্র দেরি না করে ঝটপট সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বৃহত্তম টিকাকরণ প্রক্রিয়ার দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। এই উদ্যোগেরই ভূয়ষী প্রশ্ংসা করেছেন গেটস। তবে শুধু গেটস নন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) প্রধান টেড্রস অ্যাডহানম ঘেব্রেইসাস এবং আরও অনেক রাষ্ট্রনেতাদের মুখেই ভারতের প্রশ্ংসা শোনা গেছে।

গত শুক্রবার, অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন তথা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড টিকাকে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা (ডিজিসিআই)। তার পরদিনই ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকাতে সায় দেয় ডিজিসিআই। টিকাকরণও আর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে বলে ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রশ্ংসা করে মাইক্রোসফট কর্তা বলেছেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারত তার দক্ষতা বারে বারেই প্রমাণ করেছে। বিশ্বের বাজারে বিপুল পরিমাণ টিকা সরবরাহ করার ক্ষমতাও আছে ভারতের। বিশ্ব মহামারী ঠেকাতে ভারতের প্রচেষ্টার প্রশংসা করতেই হয়।

একই বক্তব্য হু-প্রধান টেড্রসেরও। তিনি বলেছেন, ভারত সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোভিড অতিমহামারী ঠেকাতে ঐক্য ও সংহতির সঙ্গে কাজ করছে ভারত।

কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থাকে আর্থিক সাহায্য করছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। পেনসালিভানিয়ার বায়োটেক ফার্ম ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালসের ভ্যাকসিন গবেষণায় সামিল বিল গেটস। অ্যাস্ট্রজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং নোভাভ্যাক্সের ভ্যাকসিন গবেষণায় আর্থিক অনুদান দিয়েছে বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস। এখনও অবধি করোনার ভ্যাকসিন রিসার্চে ৩৫ কোটি ডলার অর্থসাহায্য করেছেন বিল গেটস ও তাঁর ফাউন্ডেশন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটকেও বিপুল পরিমাণ অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বিল গেটস বলেছিলেন, করোনা সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা প্রশংসনীয়। লকডাউনের বিধিনিষেধ মেনে চলা হোক বা ভ্যাকসিনের গবেষণা, সব ক্ষেত্রেই ভাল কাজ করছে ভারত। কোভিড মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে তৈরি ‘কোভিড-১৯: ইন্ডিয়া’স ওয়ার এগেনস্ট দ্য ভাইরাস’ ডকুমেন্টারিতেও গেটসকে বলতে শোনা গিয়েছিল, অতিমহামারীর মোকাবিলা করা ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এত বড় দেশ, তার এত বিপুল জনসংখ্যার মাঝে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকানো সহজ ব্যাপার নয়। সেই কাজ দক্ষতার সঙ্গেই করেছে এবং করার চেষ্টা করছে ভারত।

ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেকনোলজি কোম্পানিগুলোর পরিকাঠামোর প্রশংসাও শোনা গেছে গেটসের মুখে। তিনি বলেছেন, ড্রাগ ও ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারতের সুনাম আছে বিশ্বের বাজারে। ভারতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন ও ওষুধ তৈরি হয়, বিশ্বের কোনও দেশে তেমনটা হয় না। করোনার টিকা তৈরির কাজে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যালগুলির সেই প্রচেষ্টাই দেখা যাচ্ছে। ভারত ই, ভারত বায়োটেক, সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, জাইদাস ক্যাডিলা খুব ভাল কাজ করছে। কোটি কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি করার পরিকাঠামো রয়েছে তাদের। গেটসের কথায়, ভারত শুধু নিজের কথাই ভাবছে না। সারা বিশ্বে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এইভাবে সংহতির পথে চললেই অতিমহামারী ঠেকানো সম্ভব হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More