প্রথম চিনা ভ্যাকসিনে অনুমোদন, সিনোফার্মের টিকাকে সুরক্ষিত বলল হু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে চিনা ভ্যাকসিনে ছাড়পত্র দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জরুরিকালীন ভিত্তিতে ও শর্তসাপেক্ষে চিনের সিনোফার্মের টিকাকে সার্বিকভাবে প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন গণবন্টন প্রকল্প কোভ্যাক্সের অধীনে সারা বিশ্বে নিজেদের তৈরি টিকা পৌঁছে দিতে মরিয়া ছিল চিন। এই নিয়ে হু-র সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছিল বেজিং। এই অনুমোদন মেলার পরে ভ্যাকসিন কূটনীতিতেও চিন অনেক ফায়দা পাবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশেও নিজেদের তৈরি টিকা পৌঁছে দেওয়ার রাস্তাটা আরও মসৃণ হল চিনের কাছে।

চিন যতগুলি কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি করেছে তার মধ্যে সানোফার্ম, সিনোভ্যাক ও ক্যানসিনো বায়োফার্মের টিকাকেই জরুরিকালীন ভিত্তিত নিজের দেশে ছাড়পত্র দিয়েছে শি জিনফিং সরকার। এতদিন চিনেই এই গণহারে টিকা দিচ্ছিল সিনোফার্ম। আরব আমিরশাহিতে গত বছর থেকেই সিনোফার্মের টিকার ট্রায়াল ও পরে প্রয়োগ শুরু হয়ে যায়। তাছাড়া বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশকেও এই টিকা সরবরাহ করেছে চিন। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না থাকায় অনেক দেশই চিনের টিকা ব্যবহারে মত দেয়নি। এমনকি ব্রাজিল চিনের যে কোনও ভ্যাকসিন বয়কটের ডাকও দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারই দ্বারস্থ হয়েছিল চিন। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা, মোডার্না, ফাইজার ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে হু। এবার সবুজ সঙ্কেত পেল চিনা ভ্যাকসিনও।

চিনের প্রথম সারির ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সিনোফার্ম। গত বছর ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (JAMA)-এ সিনোফার্ম তাদের তৈরি টিকার ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনেছিল। তাতে দাবি করা হয়েছিল, এই টিকা শরীরে ঢুকে রক্তের বি-লিম্ফোসাইট কোষ তথা বি-কোষকে সক্রিয় করে তুলেছে। ফলে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে রক্তরসে। পাশাপাশি, টি-কোষও সক্রিয় হয়েছে। এই টি-কোষ হল শরীরের প্রতিরক্ষার মূল অস্ত্র। গোটা ইমিউন সিস্টেমকে চালনা করে এই টি-কোষ বা টি-লিম্ফোসাইট কোষ। শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা প্যাথোজেন ঢুকলে তার মোকাবিলায় টি-কোষ শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। ফলে শরীরে ঢুকে আসা ভাইরাল অ্যান্টিজেনকে আটকাতে একটা সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়। যে কোনও ভ্যাকসিন গবেষণার মূল লক্ষ্যই থাকে বি-কোষ ও টি-কোষকে অ্যাকটিভ করে এই সুরক্ষা বলয় তৈরি করা। সিনোফার্ম দাবি করেছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ঠিক এই কাজটাই করছে। চিনের ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটও দাবি করেছে, এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে নিরাপদ ও সুরক্ষিত।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More