আজ দ্বিতীয়বার ইমপিচমিন্টের মুখোমুখি ট্রাম্প, আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনাই বটে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ইমপিচমিন্টের মুখোমুখি হচ্ছেন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর সেই নাম ডোনাল্ড ট্রাম্পেরই।

মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পকে ইমপিচ করার জন্য ভোটাভুটি হবে আজই। রিপাবলিকান সদস্যদের বিস্তর ভোট যদি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে আজই (ভারতীয় সময় অনুযায়ী)ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস থেকে পাকাপাকিভাবে সরিয়ে দেওয়া হবে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। অর্থাৎ ট্রাম্পের মেয়াদ আর মাত্র ৬ দিন। কাজেই মেয়াদ শেষের আগেই ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়া হবে তাঁর গদি থেকে। সহজ কথায়, বিতাড়িত করা হবে।

আমেরিকার ইতিহাসে ট্রাম্প হলেন তৃতীয় প্রেসিডেন্ট যাঁকে ইমপিচ করা হচ্ছে। আমেরিকার সংবিধানে বলা হয়েছে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে যদি কোনও প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করা হয়, তা হলেও তিনি নিজের পদে থাকতে পারেন। এরপর সেনেট স্থির করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্ট যদি দেশবিরোধী কাজ করেন, কিংবা অন্য কোনও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনা যেতে পারে মার্কিন কংগ্রেসে। এর আগে যে দুই প্রেসিডেন্টকে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ইমপিচ করেছিল, তাঁরা হলেন বিল ক্লিনটন ও অ্যান্ড্রু জনসন। তাঁরা দু’জনেই রেহাই পেয়েছিলেন সেনেটে।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যতিক্রমী। তিনি একবার নয়, দু’ বার ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাঁরই উস্কানিতে খোদ ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে চড়াও হয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ট্রাম্প-সমর্থকরা। সেনেট সদস্যদের ওপর হামলা হয়েছে, গুলি চলেছে, প্রাণও গেছে পাঁচ জনের। আমেরিকার ইতিহাসে এই ঘটনা নজিরবিহীন। এরপরেই ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রস্তাব জমা পড়ে মার্কিন কংগ্রেসে।  ক্ষমা চাওয়া দূরে থাক, ওই ঘটনার ছ’দিন পরে প্রথম বার প্রকাশ্যে এসে ট্রাম্প হুমকির সুরেই বললেন, তাঁকে ইমপিচ করার চেষ্টা হলে আরও বড় হাঙ্গামা হবে দেশে।

এক্ষেত্রে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে অন্তত দুই তৃতীয়াংশ সেনেটরকে দাঁড়াতে হবে। একজন সেনেটের ম্যানেজার হবেন যিনি ইমপিচমেন্টের সপক্ষে যুক্তি দেবেন। সেনেটে এমনিতেই রিপাবলিকান সদস্য সংখ্যা বেশি। ডেমোক্র্যাটদের তাই নিজেদের সপক্ষে রিপাবলিকান সেনেটের সম্মতি জোগাড় করতে হবে। ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সমর্থন চেয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। পেন্সকে বলা হয়েছিল, সংবিধানের ২৫ তম সংশোধনীর আওতায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব জমা করতে। তবে পেন্স বেঁকে বসেছেন। ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে তিনি রাজি নন। ২৫ তম অ্যামেন্ডমেন্টও খারিজ করে দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে ইমপিচ করার এই সিদ্ধান্ত দেশ ও জাতীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

তবে, এখনও অবধি জানা গেছে ট্রাম্পের শিবির অর্থাৎ রিপাবলিকান পার্টির পাঁচ জন সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে রয়েছেন। ইমপিচমেন্টের সপক্ষে এখনও অবধি ভোটের ফল ২২৩-২০৫। অর্থাৎ ২২৩ জন সংসদ সদস্য ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কাজেই আশা করা হচ্ছে, ইমপিচমেন্ট সফল হলেও হতে পারে। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, “আইনের উর্ধ্বে কোনও কিছুই নয়। প্রেসিডেন্টের শপথ নিয়ে অন্যায়ভাবে প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন ট্রাম্প। তাই এই ইমপিচমেন্ট দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More