‘কাটা মুন্ডু দেখে ভয় পেতাম না, অনুশোচনাও নেই,’ গর্ভস্থ সন্তানের জন্য দেশে ফিরতে চান আইএস জঙ্গির বৌ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই বান্ধবীর হাত ধরে দেশ ছেড়েছিলেন চার বছর আগে। শামিমা বেগমের বয়স তখন ১৫। দু’চোখে নতুন জীবনের স্বপ্ন। ব্রিটেন ছেড়ে সিরিয়ায় পালিয়ে এসেছিলেন ওঁরা। বিয়েও করেন। স্বামী প্রভাবশালী আইএস নেতা এখন  সিরিয়া ডেমোক্র্যাটিক বাহিনী (এসডিএফ)-এর হাতে বন্দি। দুই সন্তানের মৃত্যুর পর তৃতীয় সন্তানকে বাঁচাতে উনিশের তরুণী এখন দেশে ফিরতে মরিয়া।

‘‘আমি ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আগের দুই সন্তানই অপুষ্টি ও অসুখে মারা গেছে। আমিও অসুস্থ। তৃতীয় সন্তানকে বাঁচাতেই ব্রিটেনে ফিরতে চাই,’’ সিরিয়ার এক শরণার্থী শিবির থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন শামিমা। সম্প্রতি শামিমার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে সিরিয়ার সেনা। তাদের দাবি, বছর ত্রিশের ডাচ যুবক ইয়াগো রিয়েদিক প্রভাবশালী আইএস নেতা। বিদেশিদের জঙ্গি মতাদর্শে প্রভাবিত করতে মগজধোলাই করত সে। অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। শামিমাকে বিয়ের আগে নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে।

বেথাল গ্রিন অ্যাকাডেমি স্কুলের মেধাবী ছাত্রী শামিমা দেশ ছাড়েন ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই সহপাঠী আমিরা আবেস ও কাদিজা সুলতানা। লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে তাঁরা তিন জনে উড়ে যান তুরস্ক। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় ঢোকেন। শামিমার কথায়, ‘‘বাড়িতে বলে গেছিলাম তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে যাচ্ছি। সিরিয়া পৌঁছে আইএস-এ যোগ দিই। ২০-২৫ বছর বয়সের যে কোনও ইংরাজি ভাষা জানা আইএস যুবককে বিয়ে করার জন্য অনুমতি চাই। দশ দিন পর এক ইয়াগোর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে যায়।’’

ব্রিটেন থেকে আইএস ঘাঁটিতে গিয়ে সংসার পাতার অভিজ্ঞতা শোনাতে গিয়ে শামিমা বলেন, পাল্টে যাওয়া জীবনে তিনি খুব খুশিই ছিলেন। অনেক মৃত্যু দেখেছেন, তবে কখনও ভয় পাননি। বলেন, ‘‘ডাস্টবিনে পড়ে থাকত শয়ে শয়ে কাটা মুন্ডু। কখনও শিউরে উঠিনি। আইএসে যোগ দেওয়ার অনুশোচনাও নেই। যাঁরা ইসলামের বিরোধী তাঁদেরই এ ভাবে হত্যা করা হতো।’’

(বাঁ দিক থেকে)কাদিজা সুলতানা, আমিরা আবেস ও শামিমা বেগম

সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত সেনা জোটের আক্রমণে আইএস এখন কোণঠাসা। জঙ্গি নেতারা একে একে ধরা পড়ছে। শামিমাকে নিয়ে রাকায় সংসার পেতেছিলেন ওই জঙ্গি নেতা। রাকা তখন আইএসের ঘাঁটি। ২০১৭ সালে মার্কিন সেনা ও সিরিয়া ডেমোক্র্যাটিক বাহিনী (এসডিএফ)-এর সাঁড়াশি আক্রমণে রাকা ছাড়তে বাধ্য হয় আইএস। একের পর এক এলাকায় তারা পিছু হটতে শুরু করে।  ‘‘আমার স্বামী আত্মসমর্পন করেন সিরিয়ার সেনার হাতে। তাঁর উপর খুব অত্যাচার চলছে। আমার দুই বান্ধবীই মৃত। একজনের প্রাণ গেছে বোমা বিস্ফোরণে। অপর জনের মৃত্যুর কারণ জানা নেই। আমি পালিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলাম,’’ বলেছেন শামিমা। প্রথম সন্তানের মৃত্যু হয় এক বছর বয়সে অপুষ্টিতে। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই। তৃতীয় সন্তানকে সুস্থ ভাবে জন্ম দেওয়াই এখন শামিমার একমাত্র লক্ষ্য।

‘‘উত্তর সিরিয়ার এই শরণার্থী শিবিরে এখন ৩৯,০০০ মানুষের বাস। তাঁদের অনেকেই দেশে ফিরতে মরিয়া। এখানে ঠিকমতো খাবার নেই, বাঁচার পরিবেশও নেই,’’ শামিমার কথায়, ‘‘আইএস এখন অনেক ছোট হয়ে আসছে। সেই লড়াকু প্রবৃত্তি হারিয়েছে। জয়ের সম্ভাবনাও অনেক কম। আমি শুধু দেশে ফিরে সুস্থ ভাবে সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চাই।’’

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More