ইমরানের দেশে গুরুদ্বারে হামলা, ধৃত ‘ইমরান’ নামে এক যুবক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুরুদ্বারকে মসজিদে বদলে দেব, পাথর ছুড়তে ছুড়তে ক্রমাগত এটাই বলে যাচ্ছিল যুবক। নানকানা সাহিব গুরুদ্বারে হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পাক পুলিশের দাবি, এই যুবকই সেদিনের হামলার মূল অভিযুক্ত। হিংসয় উস্কানি দিচ্ছিল সেই।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম ইমরান। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দিন পুণ্যার্থীদের উপর পাথর ছুড়তে দেখা যায় তাকে। ধর্মবিরোধী স্লোগান তুলতেও দেখা যায় তাকে।

গুরু নানকের জন্মস্থান নানকানা সাহিবের প্রসিদ্ধ গুরুদ্বারটি শিখদের অন্যতম তীর্থস্থান। শুক্রবার সেখানে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায়। ভিন ধর্মে বিয়ের একটি ঘটনা ঘিরে অশান্তির জেরে কয়েকশো মানুষ নানকানা সাহিব গুরুদ্বার ঘিরে ফেলে।  ভিতরে আটকে পড়েন পুণ্যার্থীরা। অভিযোগ ওঠে, শিখ পুণ্যার্থীদের দিকে পাথর ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার ভিডিও ঘিরে উত্তাল হযে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। দিল্লি কড়া বিবৃতি দিয়ে সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য পাক সরকারকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলে। যদিও পাক বিদেশমন্ত্রক দাবি করে, ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া হচ্ছে। গুরুদ্বার অক্ষতই আছে বলে দাবি করা হয় পাক বিদেশমন্ত্রকের তরফে।

আরও পড়ুন: নানকানা সাহিবে হামলার কথা স্বীকার করেও মোদীকে কটাক্ষ ইমরানের

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, “গুরুদ্বারের কাছে একটা চায়ের দোকানে ছোট গণ্ডগোল হয়েছিল। প্রশাসনের তরফে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার উপর ধর্মের রং চড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গুরুদ্বারে একটা আঁচড় পর্যন্ত লাগেনি। নানকানা সাহিব গুরুদ্বারে পুণ্যার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছে বলে যে খবর বেরিয়েছে তা শুধুমাত্র মিথ্যে নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও বটে।” এই বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে পাকিস্তান সরকার দেশের মানুষের বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

গুরুদ্বারে হামলার দু’দিন পরে আজ মুখ খুলে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। টুইট করে তিনি বলেন, ‘‘নানকানা সাহিবের ঘটনার সঙ্গে ভারতে মুসলিমদের ও সংখ্যালঘুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার মধ্যে অনেক ফারাক আছে। প্রথমটা আমার দৃষ্টিতে অপরাধ। সংকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে।’’

মোদী সরকারের সমালোচনা করে পাক প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ভারতের পুলিশ সরকারের নির্দেশেই মুসলিমদের উপর হামলা চালায়। মোদী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এই হামলাকে সমর্থন করে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More