চিনা রকেটের ২৩ টন ভাঙাচোরা বর্জ্য মিশছে ভারত মহাসাগরে, ‘চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন’ নিন্দা নাসার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীকে পাক খেতে খেতে চিনা রকেটের যন্ত্রাংশ খসে সেই পৃথিবীতেই আছড়ে পড়েছে। টানা দশ দিন মহাকাশে চোখ রেখে বসেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু চিনের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা কোনও ভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি লং-মার্চ ৫বি রকেটের এই দ্বিতীয় ভ্যারিয়ান্টকে। বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি কোনওভাবেই। রবিবার রকেটের ভেতরের ১০০ ফুট লম্বা অংশ বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সোজা ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়েছে। প্রাণহানি হয়নি ঠিকই, তবে রকেটের বর্জ্য সাগরের জলে মিশে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে চলেছে বলেই অভিযোগ বিজ্ঞানীদের।

রবিবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিট নাগাদ (বেজিংয়ের সময় অনুসারে) ভারত মহাসাগরের জলে ভেঙে পড়ে লং-মার্চ রকেটের প্রায় ২৩ টন ওজনের যন্ত্রাংশ। সমুদ্রের ৭২.৪৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা ও ২.৬৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ বরাবর রকেটের টুকরোগুলে খসে পড়ে।

Chinese rocket debris falls over Indian Ocean - CBS News

‘চিন চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন’ নিন্দায় সরব হয়েছে নাসা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান বিল নেলসন বলছেন, উৎক্ষেপণের পরে রকেট পৃথিবীর কক্ষপথে বসাতেই পারেনি চিন। তাদের সমস্ত পরিকল্পনা ছিল ভুল। এই ভুলেরই মাসুল দিতে হল পৃথিবীকে। রকেট যখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল তখন তার গতি রোধ করতে পারেননি চিনের মহাকাশবিজ্ঞানীরা। সেই রকেট ভেঙে বর্জ্যগুলো এতদিন পৃথিবীর চারদিকে পাক খাচ্ছিল। একটু একটু করে গতি বাড়িয়ে বায়ুমণ্ডলের দিকে এগিয়ে আসছিল। শেষ অবধি তাই হল।

Chinese rocket falls back to Earth in uncontrolled fall, largest in 3 decades

নাসা বলছেন, গত বছরও এই লং-মার্চ ৫বি রকেটের প্রথম ভ্যারিয়ান্ট উৎক্ষেপণ করেছিল চিন। সেটাও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইভরি কোস্টে আছড়ে পড়ে। আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনও প্রাণহানি ঘটেনি ঠিকই, তবে সেই এলাকার বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়।

NASA Criticizes China After Rocket Debris Burns Up Over Indian Ocean

পৃথিবীর কক্ষে ২২.৫ মেট্রিক টনের তিয়ানহে স্পেস স্টেশন মডিউল বসানোর কাজ করছিল চিন। পৃথিবীর কক্ষপথের সঠিক অবস্থানে এই স্পেস স্টেশনের মডিউল বসাতে লং মার্চ ৫বি রকেট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছিল গত ২৮ এপ্রিল। এই রকেটের কাজ ছিল মডিউলটিকে সঠিক অবস্থানে বসিয়ে দিয়ে ফিরে আসা। কিন্তু তা হয়নি। উল্টে বিশালকারা রকেটটি নিজেই গতি হারিয়ে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। গতি বাড়িয়ে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে শুরু করে। এই বিপদ দেখে মাথায় হাত পড়ে যায় বিজ্ঞানীদের। হিসেব কষে বলা হয়, রকেটের টুকরোগুলো ৪১.৫ ডিগ্রি অক্ষাংশে হেলে আছে। সেই হিসেবে নিউ ইয়র্ক, মাদ্রিদ বা বেজিং অথবা দক্ষিণ চিলিতে আছড়ে পড়তে পারে রকেটটি। সমুদ্রে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। গতকাল বায়ুমণ্ডল ঠেলে রকেটের অংশ ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়ে।

নাসার দাবি, চিন যে কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন তার পরিচয় আগেও মিলেছে। ২০১৮ সালে চিনের প্রথম স্পেস স্টেশন তিয়ানগং ১ তৈরির সময়েও এমন বিপর্যয় ঘটেছিল। ৮ টন ওজনের অংশ স্টেশনে স্টেশন থেকে খসে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়েছিল। তবে ১৯৭৯ সালে নাসার স্কাইল্যাব স্পেস স্টেশনেরও ৮৩ টন ওজনের অংশ খসে অস্ট্রেলিয়া পড়েছিল। এর আগে ১৯৭৫ সালে রাশিয়ার স্পুটনিক ভি রকেটের ৫০ টন ওজনের যন্ত্রাংশ খসে পড়েছিল আটলান্টিক মহাসাগরে। তবে এই দুটি ঘটনায় কোনও প্রাণহানি ঘটেনি বলেই খবর বেরিয়েছিল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More