ব্রিটেনে আবারও করোনার নতুন প্রজাতি, এই স্ট্রেনও সুপার-স্প্রেডার, চূড়ান্ত সতর্কতা জারি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেন স্ট্রেন তথা বি.১.১.৭ স্ট্রেন নিয়ে এতদিন চিন্তার শেষ ছিল না। করোনার এই নতুন সুপার-স্প্রেডার স্ট্রেন ব্রিটেন ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভারত সহ বিশ্বের আরও ৩০টি দেশে। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে সংক্রামিত লক্ষাধিক মানুষ। ফের করোনার এক নতুন প্রজাতি চিহ্নিত করলেন ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা। এই স্ট্রেনেও নাকি জিনের বিন্যাস বদল বা মিউটেশন শুরু হয়ে গেছে।

সার্স-কভ-২ ভাইরাসের এই নয়া প্রজাতির নাম বি.১.১.৩১৮। আগের স্ট্রেনের মতোই জিনের মিউটেশনের ফলে সংক্রামক হয়ে উঠেছে। ব্রিটেনের কোথায় কোথায় এই নয়া স্ট্রেন ছড়িয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য এখনও পাননি বিজ্ঞানীরা। তবে এই নতুন স্ট্রেনের জন্য ফের সতর্কতা জারি হয়েছে দেশজুড়ে।

Coronavirus research: China publishes Beijing genome data, suggests European strain

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের শরীরে করোনার এই নয়া প্রজাতির হদিশ মিলেছে। দেশজুড়ে কোভি়ড টেস্ট ও কনট্যাক্ট ট্রেসিং আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ভ্যারিয়ান্টের বৈজ্ঞানিক নাম VUI-202102/04। গবেষকরা বলছেন, এন৫০১ওয়াই মিউটেশন হচ্ছে কিনা জানা যায়নি, তবে ই৪৮৪কে মিউটেশন হয়েছে এই স্ট্রেনে। আগের স্ট্রেন তথা ব্রিটেন স্ট্রেনে ১৭টা মিউটেশন হয়েছিল ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে ৬৯ ও ৭০ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডই মুছে দিচ্ছিল ভাইরাস। ফলে উড়ে যাচ্ছিল জিনের ৬টি বেস পেয়ার। এই ধরনের মিউটেশনকে বলা হচ্ছে N501Y। গবেষকরা বলছেন, নতুন স্ট্রেনে ফের সেইরকম মিউটেশন শুরু হলে আরটি-পিসিআর টেস্ট ওই নির্দিষ্ট জিনের বিন্যাসকে চিহ্নিত করা মুশকিল হবে। যেহেতু ওই নির্দিষ্ট জিনের বিন্যাসে দুই অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড মুছে যাচ্ছে, তাই ভাইরাল জিনকে আর সঠিকভাবে চিহ্নিতই করা যাবে না। যার ফলে নমুনায় ভাইরাল স্ট্রেন থাকা সত্ত্বেও ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট আসবে।

সাড়ে সাত হাজার কোভিড পজিটিভ রোগীর নমুনা থেকে ভাইরাল স্ট্রেন আলাদা করে খুঁটিয়ে তাদের কার্যকলাপ দেখে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের (ইউসিএল) বিজ্ঞানীরা বলেছেন, খুব দ্রুত জিনের গঠন বদলাচ্ছে ভাইরাস। এই বদলটা হচ্ছে পরপর, একসঙ্গে। একটা ভাইরাসের জিনোম (ভাইরাল জিন) থেকে তৈরি হচ্ছে আর একটা, তার থেকে আবার আরও একটা। এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকছে। আর আশ্চর্যের ব্যাপার হল, প্রতিটা জিনোমই একে অপরের থেকে আলাদা। কারণ প্রতিবারই প্রতিলিপি বা নিজের মতোই আরও একটিকে তৈরি করার সময় জিনের গঠন বদলে ফেলেছে ভাইরাস। গবেষকরা দাবি করেছেন, একসঙ্গে ২০০ বার জিনের গঠন বদলাতে দেখা গেছে এই ভাইরাসকে। প্রতিটা বদলেই সে হয়ে উঠেছে আরও সংক্রামক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More