আগামী চার মাসে ভয়ঙ্কর করোনা ছড়াতে পারে, সতর্ক করলেন বিল গেটস

গেটস বলছেন, ভ্যাকসিন এলেই যে সংক্রমণ থেমে যাবে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। কোভিড ভ্যাকসিনের প্রথম শট ভাইরাসজনিত জটিল রোগ থেকে বাঁচাতে পারে। তবে সংক্রমণ পুরোপুরি থামাতে পারে না।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডক্টর অ্যান্থনি ফৌজি বলেছিলেন সোয়াইন ফ্লুয়ের থেকেও ভয়ঙ্কর করোনা অতিমহামারী। সে কথাই ফের মনে করিয়ে দিলেন মাইক্রোসফট কর্তা বিল গেটস। সারা বিশ্ব ভ্যাকসিনের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে আছে, কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিনের বিতরণও শুরু হয়ে গেছে। সংক্রমণ শেষ হল বলে, এই আশাও জেগেছে। এমন পরিস্থিতিতেই গেটস বলছেন, সবকিছু ভুলে উল্লাসে মাতলে চলবে না। কারণ আগামী চার থেকে ছয় মাস অতিমহামারী আরও ভয়ঙ্কর চেহারা নিতে পারে। কাজেই সতর্ক থাকতেই হবে।

শীতকালে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলেই সতর্ক করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কারণ ঠান্ডার সময় শুষ্ক বাতাসে ভাইরাসের জলকণা বা ভাইরাল পার্টিকল বেশিদিন টিকে থাকতে পারে বলেই দাবি ছিল তাঁদের। এর মধ্যেই শীতের শুরুতে ভাইরাল ফ্লু মাথাচাড়া দেয় অনেক দেশেই। বিশেষত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে পশ্চিমের দেশগুলিতে। আমেরিকা তাদের মধ্যে একটি। ভাইরাল ফ্লু আর করোনা সংক্রমণের উপসর্গও অনেকটাই এক। বিজ্ঞানীরা আবার বলেছেন, করোনাভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা একসঙ্গে মিলে গিয়ে ‘টুইনডেমিক’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে আমেরিকায়।

গেটস বলছেন, ভ্যাকসিন এলেই যে সংক্রমণ থেমে যাবে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। কোভিড ভ্যাকসিনের প্রথম শট ভাইরাসজনিত জটিল রোগ থেকে বাঁচাতে পারে। তবে সংক্রমণ পুরোপুরি থামাতে পারে না। গেটসের আরও দাবি, আমেরিকা ও অন্যান্য দেশগুলিতে যেভাবে মেলামেশা বাড়ছে তাতে সংক্রমণের তৃতীয় ধাক্কা আসতে দেরি নেই। বিশেষত বড়দিনের উৎসবের সময় সংক্রমণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকায় ইতিমধ্যেই ভাইরাস সংক্রমণে ২ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভোলিউশনের সমীক্ষা বলছে, আগামী কয়েকমাসে বিশ্বে করোনা সংক্রমণে আরও ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থাকে আর্থিক সাহায্য করছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। পেনসালিভানিয়ার বায়োটেক ফার্ম ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালসের ভ্যাকসিন গবেষণায় সামিল বিল গেটস। অ্যাস্ট্রজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং নোভাভ্যাক্সের ভ্যাকসিন গবেষণায় আর্থিক অনুদান দিয়েছে বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস। এখনও অবধি করোনার ভ্যাকসিন রিসার্চে ৩৫ কোটি ডলার অর্থসাহায্য করেছেন বিল গেটস ও তাঁর ফাউন্ডেশন।

মাইক্রোসফট কর্তা বলেছেন, শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্য নয় বিশ্বের প্রতিনি কোণায় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে কোটি কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন তিনি। মাইক্রোসফট কর্তার কথায়, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। ভ্যাকসিনের ট্রায়াল কতদূর এগলো সে ব্যাপারে খোঁজ রাখছেন তিনি। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলির জন্য ভ্যাকসিন কিনবে তাঁর ফাউন্ডেশন, এমন আশ্বাসও দিয়েছেন গেটস।

মাইক্রোসফট কর্তা বলেছেন, বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে হবে। তাহলেই করোনা অতিমহামারী রোখা সম্ভব হবে। আর্থিকভাবে উন্নত দেশগুলির পাশাপাশি উন্নয়নশীল ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতেও খুব তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন বিতরণ শুরু করতে হবে। তা না হলে আগামী কয়েকমাসে ভাইরাস আরও সংক্রামক চেহারা নিয়ে ছড়িয়ে পড়বে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More