‘ঝড় থামবে না, আমাদের রুখতে পারবে না কেউ’, মৃত্যুর আগে বলেছিলেন ট্রাম্প-সমর্থক অ্যাশলি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিনি অন্ধ ভক্ত। নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকান শিবিরের জন্য বিস্তর ক্যাম্পেনও করেছিলেন। ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে ট্রাম্প সমর্থকদের বিক্ষোভে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতেই। মুখে ছিল বিদায়ী প্রেসিডেন্টের জয়ধ্বনি। বিল্ডিং চত্বরে গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে এই ট্রাম্প সমর্থক অ্যাশলি ব্যাবিটের।

পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির সময় আচমকাই গুলি লাগে অ্যাশলির কাঁধে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়এ পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়েই শারীরিক অবস্থা ছিল সঙ্কটজনক। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বাঁচানো যায়নি অ্যাশলিকে। আরও তিনজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে গুলি লেগে।

সন্ধ্যে ৬টা থেকে ভোর ৬টা অবধি তুমুল বিক্ষোভ চলেছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ক্যাপিটল বিল্ডিং চত্বর। নিরপত্তা বলয় ভেঙে, বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকেও তাণ্ডব করেছেন হামলাকারীরা। হাতে ট্রাম্পের নাম লেখা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের দলে সামনের সারিতেই ছিলেন অ্যাশলি। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি করতেও দেখা যায় তাঁকে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে টুইট করে হার না মানার কথা বলেছিলেন অ্যাশলি ব্যাবিট। টুইটে তিনি লিখেছিলেন, “কোনওকিছুই আমাদের থামাতে পারবে না। তারা চেষ্টার পর চেষ্টা করে যাবে, কিন্তু ঝড় উঠে গেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা আছড়ে পড়বে ডিসিতে, রাতের অন্ধকার থেকে দিনের আলো অবধি ঝড় বইবে।“

Trump supporters stand on the U.S. Capitol Police armored vehicle as others take over the steps of the Capitol

অ্যাশলি ও তাঁর স্বামীর নিজস্ব ব্যবসা আছে সান দিয়েগোতে। ট্রাম্পের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিতে একাই ওয়াশিংটনে এসেছিলেন অ্যাশলি। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর স্বামী বলেছেন, “কিছুই বুঝতে পারছি না কী হল। কেন অ্যাশলি এমন করল জানি না।”

প্রেসিডেন্টের গদিতে বাইডেন বসার আগেই উত্তাল হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন ডিসি। ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে হামলাকারীদের। গুলি চলছে। রক্তাক্ত বিল্ডিং চত্বর। চার বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ চিফ রবার্ট ডে  কন্টি বলেছেন, হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্যাপিটল বিল্ডিং থেকে বিক্ষোভাকারীদের বের করা দেওয়া হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগেছে বিল্ডিং খালি করতে। গোটা চত্বর ঘিরে রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More