সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ, ধূসর তালিকাতেই রইল পাকিস্তান

বুধবার এফএটিএফ-এর ৩৯ সদস্য দেশের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের বৈঠক হয়। ভিডিও কনফারেন্সে সেই বৈঠকে এফএটিএফ জানায়, নির্ধারিত ২৭টি শর্তের মধ্যে ১৩টিই পালন করতে পারেনি পাকিস্তান। অতএব ধূসর তালিকার বাইরে রাখা যাবে না পাকিস্তানকে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো বন্ধ করতে পারেনি। জঙ্গি দমনেও ব্যর্থ। তাই ‘ধূসর তালিকা’তেই থাকছে পাকিস্তান। সাফ জানিয়ে দিল ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)।

গতকাল, বুধবার এফএটিএফ-এর ৩৯ সদস্য দেশের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের বৈঠক হয়। ভিডিও কনফারেন্সে সেই বৈঠকে এফএটিএফ জানায়, নির্ধারিত ২৭টি শর্তের মধ্যে ১৩টিই পালন করতে পারেনি পাকিস্তান। অতএব ধূসর তালিকার বাইরে রাখা যাবে না পাকিস্তানকে। সেই সঙ্গেই পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দেওয়া হয়,  লস্কর-ই-তৈবা অথবা জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক সাহায্য পুরোপুরি বন্ধ না-করলে কালো তালিকায় নেমে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে পাকিস্তানকে।

পাকিস্তানকে আগেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এফএটিএফ।  গত বছর অক্টোবরের মধ্যে তাদের বেঁধে দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করার জন্য চাপ দিয়েছিল এফএটিএফ। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা পূরণ করতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে তাদের ধূসর তালিকাতেই রেখে দেয় এফএটিএফ। সঙ্গে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল, ২০২০-র এপ্রিলের মধ্যে সব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এরপরেই তড়িঘড়ি জইশ প্রধান হাফিজ সইদকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান বার্তা দেয়, এফএটিএফ-এর বেঁধে দেওয়া শর্ত তারা ঠিক মতো পালন করছে। সন্ত্রাসদমনেও যথেষ্টই সচেষ্ট তারা। কিন্তু পরে দেখা যায়, পাকিস্তানের অ্যান্টি টেররিজম অ্যাক্টের (এটএ ১৯৯৭) ১১ ধারায় হাফিজের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই পর্যন্তই। হাফিজকে সাজা শোনানোর ব্যাপারে তেমন উৎসাহ দেখায়নি পাকিস্তান। তাই পাকিস্তানের এই দাবি যে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিশ্বের কাছে নিজেদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটা পুরনো কৌশল, তা ফের প্রমাণিত হল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

অতীতে ইরান, উত্তর কোরিয়াকে কালো তালিকায় ফেলেছে এফএটিএফ। পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় ফেলা হয় ২০১৮ সালের জুন মাসের বৈঠকে। এফএটিএফ-এর রিপোর্টে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নম্বর ধারায় তালিকাভুক্ত বিশেষ করে লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াতের মতো সংগঠন বা তাদের মাথার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা  নেয়নি পাকিস্তান। পাকিস্তান অবশ্য দাবি করেছে তারা বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। জঙ্গিদের অর্থ জোগান বা ‘মানি লন্ডারিং’-এর তেমন কোনও প্রমাণই নেই।

এদিকে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করতে বদ্ধপরিকর ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, একদিকে লস্কর, জইশ, হিজবুলের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রত্যক্ষ মদত করছে পাকিস্তান, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানাচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। লকডাউনের মধ্যেই একাধিকবার সীমান্তচুক্তি লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাগুলি চালিয়েছে পাক সেনা। অবশ্য কালো তালিকার বাইরে থাকলেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই ইমরান সরকার। একদিকে করোনার কোপ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ। এরপরেও নিজেদের দাবি পূরণ করতে না পারলে কালো তালিকার গেরো আর কাটাতে পারবে না পাকিস্তান।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More