ধূসর তালিকা থেকে বেরবোই, চারমাসে আট শর্ত পূরণের দাবি পাকিস্তানের

ধূসর তালিকা থেকে বেরতো মরিয়া পাকিস্তান। চারমাসেই আট শর্ত পূরণের দাবি।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালো তালিকায় ফেলা যায়নি। তবে ধূসর তালিকার গেরো কাটাতে পারেনি পাকিস্তান। সন্ত্রাসের অর্থ জোগানের উপরে নজরদারির আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএটিএফ কড়া ভাবেই বলে দিয়েছে, নির্ধারিত ২৭টি শর্তের মধ্যে ১৩টিই পালন করতে পারেনি পাকিস্তান। অতএব এখনই ধূসর তালিকার বাইরে রাখা যাবে না পাকিস্তানকে। এপ্রিল মাসের মধ্যে নিজেদের ধূসর তালিকার বাইরে বের করতে না পারলে ফের কালো তালিকাভুক্ত হতে হবে তাদের।

পাকিস্তান অবশ্য হার মানতে রাজি নয়। পষ্টাপষ্টি তারা ঘোষণা করেছে, আগামী চারমাসের মধ্যেই আট শর্ত পালন করে ফেলবে তারা। যার মধ্যে সন্ত্রাসে আর্থিক মদত জোগানো বন্ধ থেকে আন্তর্জাতিক তকমাধারী সন্ত্রাসবাদীদের কড়া সাজা ঘোষণা, সব শর্তই রয়েছে।

মঙ্গলবার প্যারিসে এফএটিএফ-এর ৩৯ সদস্য দেশের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানেই পাকিস্তান ও ইরানকে নিয়ে আলোচনা হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এই দুই দেশের ভূমিকার কথা উঠে আসে। তুরস্ক ও মালয়েশিয়া সমর্থন করে পাকিস্তানকে। কিন্তু বাকি দেশগুলি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানকে ব্যর্থ বলেই দাবি করে। লস্কর ই তৈবা, জইশ ই মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদ্দিনের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক জোগান বন্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য ধূসর তালিকায় রাখা হয় পাকিস্তানকে। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের আশ্বাসের উপর ভরসা করে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়নি ইমরান খানের দেশকে।

ধূসর তালিকা থেকে বেরোতে পাকিস্তানও কিছু কম চেষ্টা করেনি। সম্প্রতি লস্কর-মাথা হাফিজ সইদের পাঁচ বছরের সাজা ঘোষণা করে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পদক্ষেপের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গত বছর জুনে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সন্ত্রাসবাদীদের অর্থের যোগান বন্ধ করার জন্য তারা যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। তার পরে জুলাইতেই গ্রেফতার করা হয় হাফিজকে। আবার ঠিক এফএটিএফের বৈঠকের আগেই সাজা শোনানো হয় লস্কর-মাথাকে। তাই ধূসর তালিকা থেকে বাঁচতে সবটাই পাকিস্তানের চাল বলেই প্রশ্ন ওঠে নানা মহলে। হাফিজের সাজা কতটা স্বচ্ছভাবে হবে সেই নিয়েও সন্দেহ দেখা দেয়।

অতীতে ইরান, উত্তর কোরিয়াকে কালো তালিকায় ফেলেছে এফএটিএফ। পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় ফেলা হয় ২০১৮ সালের জুন মাসের বৈঠকে।। এই তালিকায় থাকা মানে, এফটিএফ মনে করছে আর্থিক অপরাধ বা জঙ্গিদের অর্থসাহায্য বন্ধ করতে না পারার কারণে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। এফএটিএফ সন্ত্রাসবাদীদের অর্থসাহায্য রুখতে ২৭ টি শর্ত দিয়েছিল পাকিস্তানকে। তার মধ্যে মাত্র পাঁচটি পূরণ করতে পেরেছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি তালিবান ও ইরান তাসে আমেরিকাকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। তার উপর পাকিস্তান পাশে পেয়েছে তাদের সর্বকালীন শক্ত খুঁটি চিনকে।

এদিকে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করতে বদ্ধপরিকর ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, একদিকে লস্কর, জইশ, হিজবুলের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রত্যক্ষ মদত করছে পাকিস্তান, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানাচ্ছে। এই দ্বৈত ভূমিকা গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাইছে ভারত। অবশ্য কালো তালিকার বাইরে আপাতত বেরালেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই ইমরান সরকার। কারণ, নিজেদের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে না পারলে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে তাদের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More