জরুরি ভিত্তিতে শিগগির টিকা আনতে চায় ফাইজার, ডিসেম্বরেই মিলতে পারে ছাড়পত্র

বড়দিনের আগে ফাইজার টিকা আনতে পারে এমনই কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে গত কয়েকদিন ধরেই। ভ্যাকসিন বানিয়েছেন যিনি সেই গবেষক বায়োএনটেকের কর্ণধার উগার সাহিনও নিজের মুখেই বলেছেন, টিকার সব প্রস্তুতিই সারা হয়ে গেছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকরী বলেই দাবি। তাই আর দেরি করতে চায় না ফাইজার এবং তাদের সহযোগী জার্মান রিসার্চ ইনস্টিটিউট বায়োএনটেক। আমেরিকায় খুব তাড়াতাড়ি টিকা নিয়ে আসার জন্য আবেদনপত্র জমা করে দেওয়া হয়েছে। ফাইজার জানাচ্ছে, মার্কিন মুলুকে যেভাবে সংক্রমণ বেড়ে চলেছে তাতে টিকার ইঞ্জেকশন দিতে শুরু না করলেই বিপত্তি বাড়বে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করতে শুরু করে দিয়েছে।

বড়দিনের আগে ফাইজার টিকা আনতে পারে এমনই কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে গত কয়েকদিন ধরেই। ভ্যাকসিন বানিয়েছেন যিনি সেই গবেষক বায়োএনটেকের কর্ণধার উগার সাহিনও নিজের মুখেই বলেছেন, টিকার সব প্রস্তুতিই সারা হয়ে গেছে। উৎপাদনও প্রায় শেষের দিকেই। সব ঠিক থাকলে এবং ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির সায় পেলে আর দেরি করা ঠিক হবে না।

অপেক্ষা আর ঠিক কতদিনের সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি ফাইজার। বায়োএনটেকের বানানো টিকার উৎপাদন ও বিতরণের দায়িত্ব তাদেরই। সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যালবার্ট বোরলা বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে কিছুদিন আগেই খাতায়কলমে কাজ সেরে ফেলতে পারলেই টিকা চলে আসবে আমেরিকার বাজারে। সে জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর আলোচনায় বসতে পারে এফডিএ-র ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির বিশেষজ্ঞরা। ১০ তারিখের মধ্যে টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্টও জমা করে দেওয়া হবে। সব খুঁটিয়ে দেখে ওইদিনই টিকা নিয়ে আসার দিন ঘোষণা করা হতে পারে।

ফাইজারের টিকা সংরক্ষণও একটা বড় ব্যাপার। তার জন্যও চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে মার্কিন স্বাস্থ্য দফতরকে। কারণ , এই টিকা সংরক্ষণের জন্য মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন। টিকা বিমানে চাপিয়ে নিয়ে যেতে হলেও এই ঠান্ডাতেই সংরক্ষণ করে নিয়ে যেতে হবে। সাধারণত যে কোনও ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩৬-৪৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। কিন্তু ফাইজারের টিকা যেভাবে তৈরি হয়েছে তাতে টিকার উপাদান টাটকা রাখতে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি বা -৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয়। এত কম তাপমাত্রা তৈরি করতে হলে কোল্ড স্টোরেজে উন্নত পরিকাঠামো থাকা দরকার। সে জন্যই তড়ঘড়ি টিকার পাইলট ডেলিভারি শুরু হয়েছে। রোড আইল্যান্ড, টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো ও টেনেসি—এই রাজ্যে টিকার ভায়াল পাঠিয়ে সংরক্ষণের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চার রাজ্যের কোল্ড স্টোরেজেই মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় টিকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে।

এত কম তাপমাত্রার জন্যই ফাইজারের টিকা ভারতে আনা যাবে কিনা সে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ভারতে বেশিরভাগ ভ্যাকসিনই সংরক্ষণ করা হয় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। কয়েকটি কোল্ড চেন সংস্থার হিমাঙ্কের নিচে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অবধি টিকা সংরক্ষণের পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু ফাইজারের টিকা তাজা রাখার জন্য যে চরম নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন তা এখনও অবধি নেই ভারতের কোনও কোল্ড স্টোরেজেই। উদ্বেগের কারণ সেখানেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More