রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

‘পাবজিওয়ালা’ স্বামী! খেলার নেশায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, পরিবার ফেলে উধাও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘পাবজি’ খেলতে পছন্দ করেন কি আপনি? সময় পেলেই বসে পড়েন মোবাইল, ল্যাপটপ খুলে? তাহলে সাবধান! খেলাটা ক্ষতিকর নয়, ক্ষতিকর হল তার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ। এই খেলার নেশাতেই মালয়েশিয়ার এক যুবক নিজের কী হাল করেছিলেন, জানলে চমকে উঠবেন আপনিও। শুধুমাত্র শিশু, কিশোর নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও যে এই খেলায় কী ভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছেন তারই উদাহরণ এই ঘটনা।

বাড়ি, পরিবার ছেড়ে সেই যুবক আপাতত নিরুদ্দেশ। গত কয়েক মাসে তাঁর কোনও খোঁজ নেই। যুবকের পরিবার জানিয়েছে, অনলাইন ভিডিও গেমের প্রতি তাঁর আকর্ষণ জন্মেছিল আগেই। মোবাইলে ‘পাবজি’ খেলতে শুরু করেন যুবক। আকর্ষণটা ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয়। দিনরাত মোবাইলে মজে থাকতে থাকতে খোয়া যায় চাকরিও। নেশা এতটাই মারাত্মক আকার নেয় যে মানসিক স্থিতিও হারাতে বসেন তিনি।

‘‘আমাকে পছন্দ করতো না একদম। কারণ আমিই তাকে সবসময় গেম খেলতে বারণ করতাম। কাছে গেলেই বিরক্ত হতো,’’ জানিয়েছেন যুবকের চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। একই দাবি তাঁর পরিবারেরও। গেম খেলার সময় বাড়ির লোকজনকে ধারেকাছে দেখলেই বেজায় খাপ্পা হয়ে উঠতেন যুবক। কখনও চোখ রাঙিয়ে উত্তর দিতেন, আবার কখনও উত্তরই দিতেন না। শেষে একদিন তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি ছেড়ে যুবক উধাও। এই ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে। কোনও ভিউয়ার ভিডিও গেমের ক্ষতিকর দিক নিয়ে মন্তব্য করেন, তো কেউ যুবকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকেই দায়ী করেন।

এই মুহুর্তে বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ভিডিও গেম হল ‘পাবজি’।  দক্ষিণ কোরিয়ার এক সংস্থার তৈরি এই গেমের নাম ‘প্লেয়ার্সআননোন ‌ব্যাটলগ্রাউন্ড’, সংক্ষেপে ‘পিইউবিজি’।  প্রস্তুতকারী সংস্থার দাবি, বিশ্বজুড়ে ২০০ মিলিয়নেরও বেশি বার সেটি ডাউনলোড করা হয়েছে। আর প্রতিদিন গেমটি খেলেন ৩০ মিলিয়ন মানুষ। অনলাইনে একাধিক মানুষ একসঙ্গে এটি খেলতে পারেন। খেলাটা অনেকটা যুদ্ধ জেতার মতো। শুরুর পরে অস্ত্র ও অন্যান্য জিনিস সংগ্রহ করতে করতে এগোতে হয়। আত্মরক্ষার খাতিরে মারতে হয় শত্রুদের থুড়ি অনলাইনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের। শেষমেশ যিনি বেঁচে থাকেন, তিনিই হন বিজয়ী। সম্প্রতি ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে দিল্লির এক শিক্ষিকা ছেলের ভিডিয়ো গেমে আসক্তি নিয়ে অনুযোগ জানালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমেই ওই গেমটির নাম করেন।  তার পর কৌতুকের ছলে বলেন, ‘‘আপকা বেটা পাবজিওয়ালা হ্যায় ক্যায়া?’’

শুধু বিদেশে নয়, অনলাইন এই গেমটি মোবাইলে দেখা দেওয়ার পর থেকেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ভারতেও।  ইতিমধ্যেই জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, গুজরাতে ওই খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গেমটির প্রতি পড়ুয়াদের আসক্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পড়াশোনা— এই যুক্তিতে জাতীয় শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনও সেটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.