সেনেটে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, মামলার আর্জি খারিজ রিপাবলিকানদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াইট হাউস ছেড়ে চলে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বিরুদ্ধে ক্যাপিটল হিলে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে মার্কিন সেনেটে। উচ্চকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এ ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রস্তাব আগেই পাশ হয়েছিল। এবার সেনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব পাশ হবে। যদি ডেমোক্র্যাটরা বেশি ভোট পান, তাহলেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে। যার শুনানি হবে ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এখানেই গোল বেঁধেছে। রিপাবলিকানরা তুমুল আপত্তি তুলেছে। শুনানির আগেই ট্রাম্পকে ইমপিচ করার সংবিধানের বিরোধী বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

৫০ জন ডেমোক্র্যাটদের তরফে মাত্র ৫ জন রিপাবলিকানকে পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু দল ভারী করতে দরকার অন্তত ১৭ জন রিপাবলিকান সদস্য। কেন্টাকির রিপাবলিকান পার্টির সেনেটর র‍্যান্ড পল বলেছেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছেড়ে চলে গেছেন। এখন তাঁর বিরুদ্ধে এই ভোটাভুটি বন্ধ করা হোক। ভোট করতে হলে সংবিধানের নিয়ম মেনেই করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পলের বক্তব্য, ৪৫ জন সেনেটর বলেছেন এই প্রক্রিয়া আসাংবিধানিক। সেনেটে তাই প্রস্তাব পাশ করার কোনও মানেই হয়না। এর পাল্টা ডেমোক্র্যাটরা দেখিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ৫৫-৪৫ ভোটে জিতে রয়েছে। কাজেই সেনেটে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার প্রস্তাবে সমস্যা থাকার কথাই নয়।

আমেরিকার ইতিহাসে ট্রাম্প হলেন তৃতীয় প্রেসিডেন্ট যাঁকে ইমপিচ করা হয়েছে। আমেরিকার সংবিধানে বলা হয়েছে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে যদি কোনও প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করা হয়, তা হলেও তিনি নিজের পদে থাকতে পারেন। এরপর সেনেট স্থির করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্ট যদি দেশবিরোধী কাজ করেন, কিংবা অন্য কোনও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনা যেতে পারে মার্কিন কংগ্রেসে।  হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে ভোটাভুটিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাব পাশ হয়ে গিয়েছে। এখন সেনেটে ট্রায়াল চলছে। ট্রাম্প যে হিংসায় মদত দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে মামলা করারও প্রস্তাব দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এরই বিরোধিতা করছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। তাদের বক্তব্য, মার্কিন কংগ্রেসে যদি প্রাক্তন প্রেসিডেন্টদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হয়, তাহলে এর আগের প্রেসিডেন্টরা যে ভুল করেছিলেন তার বিরুদ্ধেও মামলা করতে হয়। তবে ডেমোক্র্যাটরা এইসব কথায় কান দিচ্ছেন না। তাঁদের বক্তব্য, ভোটাভুটিতে এখনও অবধি তাঁদের পাল্লাই ভারী। প্রস্তাব পাশ হয়ে গেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে খুব একটা সমস্যা হবে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More