রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪

পড়ুয়ারা আনাজ ফলাবে, রান্নাও করবে নিজের হাতেই, সিলেবাসের চাপ নেই এমন স্কুল চিনে নিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘শিক্ষাকে আমরা বহন করিতেছি, বাহন করি নাই’ রবীন্দ্রনাথের এ আক্ষেপ কিন্তু ষোলোআনা সত্যি। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, ব্ল্যাক বোর্ডের গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল শিক্ষায় অভ্যস্ত হোক শহর, কিন্তু একটা প্রশ্ন এখনও মনে খচখচ করে— সবই তো হল, শিশুর উপর শিক্ষার ‘বোঝা’ কমল কি? পিঠে বইয়ের পাহাড় নিয়ে কচি কচি কাঁধগুলো যখন একটু আরাম খোঁজে তখন পড়াশোনার ‘চাপ’ কথাটা বড় সত্যি বলে মনে হয়।

আমাদের দেশের শিশুরা মোটা পাওয়ারের চশমা এঁটে বইয়ের পাতায় মুখ ডুবিয়ে যখন হাঁসফাস করছে, তখন সুদূর ডেনমার্কে শিক্ষাকে এক ঝলক মুক্ত হাওয়ার মতোই শিশু মনে ছড়িয়ে দিতে তৎপর হয়েছে সরকার। তৈরি হচ্ছে এমন স্কুল যার কথা শুনলে মনে হবে এক দৌড়ে চলে যাই সব বেড়ে ভেঙে।

স্কুল তৈরি প্রায় শেষ। কচিকাঁচাদের আনাগোনাও শুরু হয়ে গেছে। তবে ২০২০ সাল থেকে পুরোদমে চালু হবে স্কুল। গোটা স্কুলটাই সৌরশক্তি চালিত। ছাদে বসানো হয়েছে বড় বড় সোলার প্যানেল। স্কুলের ভিতরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও পাকা। পড়াশোনার সঙ্গে শিশুদের শরীরচর্চাও চলবে পুরোদমে। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের লোয়ার-সেকেন্ডারি এই স্কুলের নাম নিউ আইল্যান্ড ব্রিগগি স্কুল।

চমকটা রয়েছে অন্য জায়গায়। এখানে সিলেবাসে বাঁধা পড়াশোনার চাপ নেই। ক্লাস শেষে পড়ুয়াদের মনে হবে না, বাড়ি চলে যাই। তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেছেন স্কুল শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষরা। স্কুলের ভিতরেই বানানো হয়েছে শাক-সব্জির খেত। ছাদে রয়েছে বাগান। সেখানে নিজের হাতে ফসল ফলাতে হবে পড়ুয়াদের। রয়েছে ফলের বাগানও। গাছ লাগানো, বীজ পোঁতা, ফসল পাকলে সেটা নিজের হাতে তোলা সবই করতে হবে খুদেদের। এখানেই শেষ নয়, খেত থেকে আনাজ তুলে রান্নাও করতে হবে পড়ুয়াদের। লাঞ্চের সেটাই ব্যবস্থা।

স্কুল কর্তৃপক্ষেরা জানিয়েছেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের নানা কাজে দক্ষ করে তোলার জন্যই এই প্রয়াস। চাষের কাজও সেখানো হবে পড়ুয়াদের। রান্নার তালিমও পাবে তারা। সৌরশক্তিকে ব্যবহার করে কী ভাবে বিদ্যুতের খরচে লাগাম টানা যায় সেটাও শেখানো হবে হাতেনাতে। স্কুলের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে তারাই। ক্লাসে মন না টিকলে সব্জি খেতে ঘুরে আসারও ছাড়পত্র রয়েছে। অথবা চট করে রান্নাঘরে গিয়ে কোনও ডিস বানিয়ে সকলকে পরিবেশন করতেও পারে তারা, এর জন্য বিশেষ অনুমতি নিতে হবে না।

৯,৮১৯ বর্গফুটের এই স্কুলের নকশা বানিয়েছে ডেনমার্কের দুই জনপ্রিয় সংস্থা সি এফ মোলার এবং ত্রেজে নেচার। বাইরেও থাকছে ৪৩,০০০ বর্গ ফুট এলাকা। যা সমস্তটা জুড়ে থাকবে বাগান ও সব্জি খেত। পরিকল্পনা এমনই। স্কুলের ভিতরে থাকবে শরীরচর্চার জায়গা, জিম, গ্রিনহাউস গার্ডেন, দুটো বড় রান্নাঘর, সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য বড় ডাইনিং হল, তা ছাড়াও ক্যাম্পফায়ার ও ওপেন এয়ার কিচেনও থাকছে। পড়াশোনা ও বনভোজন চলবে একই সঙ্গে। মন খারাপের কোনও জায়গাই নেই।

স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, সিলেবাসের চাপ থেকে পড়ুয়াদের রেহাই দিতেই এই ব্যবস্থা। গতে বাঁধা শিক্ষা এখানে দেওয়া হবে না। বরং হাতে কলমে কাজ করানো শেখানো হবে। ভবিষ্যতে জীবনের নানা পর্যায়ে যা পড়ুয়াদের সাহায্য করবে। পাশাপাশি, স্কুল টিফিনে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতাও কমবে শিশুদের। টাটকা সব্জি দিয়েই বানানো হবে প্রাতরাশ থেকে দুপুরের খাবার। নিউ আইল্যান্ড ব্রিগগি স্কুলের তাই এখন একটাই স্লোগান, নির্মল হোক ভবিষ্যৎ, জঞ্জালমুক্ত হোক বাড়ন্ত শিশুর সময়। নতুন সূর্যের আলো এসে পড়ুক ওই তরতাজা উজ্জ্বল মুখগুলোর উপর।

আরও পড়ুন:

তিন চাকার চলন্ত লাইব্রেরিতে বই ফেরিওয়ালা, শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে বই পৌঁছে দিচ্ছেন শিশুদের হাতে

তিন চাকার চলন্ত লাইব্রেরিতে বই ফেরিওয়ালা, শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে বই পৌঁছে দিচ্ছেন শিশুদের হাতে

Shares

Comments are closed.