‘গণতন্ত্রের চূড়ান্ত অবমাননা’, বললেন বরিস, হিংসা বন্ধ হোক, নিন্দায় মুখর রাষ্ট্রনেতারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গণতন্ত্রকে পদদলিত করা বন্ধ হোক, এমন হিংসার রাজনীতি কখনওই কাম্য নয়, ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হিংসার তীব্র নিন্দা করে বললেন রাষ্ট্রনেতারা। গণতন্ত্রের নিগ্রহ চলছে, ট্রাম্প সমর্থকদের হিংসা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন ভাবী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও টুইট করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তরের কথা বলেছেন। ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও।

টুইট করে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “মার্কিন কংগ্রেসে চরম লজ্জার ঘটনা। বিশ্বে বরাবরই গণতন্ত্রের সমর্থনে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখন তাদেরই উচিত বিশৃঙ্খলা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর করা।”

ব্রিটেনের বিদেশসচিব ডমিনিক র‍্যাব বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের গণতন্ত্র নিয়ে গর্ব করে। কিন্তু ক্ষমতার আইনি ও যথাযোগ্য হস্তান্তরকে এভাবে অবমাননা করা হবে সেটা ভাবাই যাচ্ছে না।

ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হিংসার প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “ওয়াশিংটন ডিসিতে এমন দাঙ্গা, হিংসার পরিস্থিতি দেখে দুঃখিত। ক্ষমতার হস্তান্তর শৃঙ্খলা মেনে, শান্তিপূর্ণভাবেই হওয়া উচিত। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা কখনওই বেআইনি বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে হতে পারে না।”

গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে, সরব ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বরেল। তিনি বলেছেন, “বিশ্ববাসীর কাছে এক ঘৃণ্য এবং চরম অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষ্মী হয়ে রইল আমেরিকা। নিয়মনীতির এমন অবমাননা যুক্তিযুক্ত নয়। এটা কি সত্যিই আমেরিকা? প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, তা শ্রদ্ধার সঙ্গেই মানা উচিত।”

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, “ওয়াশিংটনে আজ যা হয়েছে তা আমেরিকার প্রকৃত ছবি নয়। এই হিংসা মেনে নেওয়া যায় না। গণতন্ত্রের সপক্ষে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের চরম অবমাননা করা হচ্ছে।”

জার্মানির বিদেশমন্ত্রী হেইকো মাস বলেছেন, ট্রাম্প এবং তাঁর সমর্থকদের ভোটের ফলাফল মেনে নেওয়া উচিত। গণতন্ত্রকে এভাবে লঙ্ঘন করা বন্ধ হোক।

“গণতন্ত্রের ওপরে হিংসাত্মক আক্রমণ হয়েছে”, টুইট করে বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, খুবই অপ্রীতিকর ঘটনা। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর করুক আমেরিকা।

শুরু থেকেই বাইডেনের জয় ভাল মনে নেননি ট্রাম্প। শোনা গিয়েছে, ভোট দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পাশা উল্টে দেওয়ার জন্য নাকি ক্রমাগত বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। টুইট করে ট্রাম্প এও বলেছেন, ভোট জালিয়াতিতে প্রেসিডেন্ট পদে বসছেন বাইডেন। ব্যালটে কারচুপি করেছেন যে ইলেক্টররা, তাঁদের বাতিল করে ফের ভোট সংশোধন করুক ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের কথায় গুরুত্ব দেননি পেন্স। নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার হস্তান্তরে যোগ দিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারটাও ভাল চোখে দেখেননি ট্রাম্প। তাই এবার ট্রাম্পের সমর্থকদের সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি। নজিরবিহীন হামলা চলেছে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে। গুলিতে হত এক বিক্ষোভকারী। জখম আরও এক। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে বিক্ষোভকারীদের। হিংসায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম অঅযাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More