তিন সপ্তাহের মধ্যে ভয়ঙ্কর করোনা ছড়াবে আমেরিকায়, ১০ গুণ বাড়বে সংক্রমণ: ফৌজি

কোভিড আক্রান্তের নিরিখে এখনও বিশ্বের পয়লা নম্বরেই রয়েছে আমেরিকা। আক্রান্ত কোটি ছাড়িয়েছে। মৃত্যু আড়াই লাখের বেশি। টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়ায় কোভিড রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউ সজোরে আছড়ে পড়বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সংক্রমণের পারদ চড়তেই থাকবে। বৃদ্ধির পরে বৃদ্ধি হবে ভাইরাল ট্রান্সমিশনের। সতর্ক করলেন হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তথা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর ডক্টর অ্যান্থনি ফৌজি।

কোভিড আক্রান্তের নিরিখে এখনও বিশ্বের পয়লা নম্বরেই রয়েছে আমেরিকা। আক্রান্ত কোটি ছাড়িয়েছে। মৃত্যু আড়াই লাখের বেশি। টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়ায় কোভিড রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ফৌজি বলেছেন, সংক্রমণের কার্ভ আরও বাড়বে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই করোনার আরও এক ধাক্কা খাওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে আমেরিকাকে। বড়দিনের ছুটি কাটাতে বহু পর্যটক এসেছেন আমেরিকায়। এই সময় মেলামেশা আরও বাড়বে। তাই সংক্রমণও মাত্রা ছাড়াবে।

আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতির জন্য প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়মনীতিকেই বরাবর দায়ী করেছেন ফৌজি। সে জন্য ট্রাম্পের রোষ নজরেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। করোনা অতিমহামারীকে স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মতোই ভয়ঙ্কর বলেছিলেন হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। এখনও অবধি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী স্প্যানিশ ফ্লু। ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর ইতিহাস দেখলে বোঝা যাবে সেই সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে পাঁচ কোটি থেকে দশ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ফৌজি বলেছিলেন, করোনাভাইরাসেরও ক্ষমতা রয়েছে সংক্রমণকে সেই পর্যায়ে ছড়ানোর।

করোনা যে জিনের গঠন বদলে আরও সংক্রামক হয়ে উঠেছে সে ব্যাপারেও সতর্ক করেছিলেন মার্কিন এপিডেমোলজিস্ট। তাঁর বক্তব্য ছিল, জিনের গঠন বিন্যাস বদলে নতুনত্ব আনছে করোনা। যার কারণেই মানুষের শরীরে দ্রুত বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা বাড়ছে। আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মারণ ভাইরাস। ফৌজি বলেছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের প্রতিটি স্ট্রেন একে অপরের থেকে আলাদা। তাই এই ভাইরাসের উৎসের খোঁজ এখনও মেলেনি। যেসব স্ট্রেন থেকে ভ্যাকসিন বানানো হচ্ছে তার বাইরেও করোনার একাধিক সংক্রামক স্ট্রেন রয়েছে যার সবকটির খোঁজ এখনও মেলেনি। তাই ভ্যাকসিন সাময়িকভাবে একটা পর্যায় অবধি সুরক্ষা দিতে পারবে, অনন্তকাল ধরে এর প্রভাব টিকবে না।

শীতের সময় করোনার সঙ্গেই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে আমেরিকায়। দুই ভাইরাসের দাপটে টুইনডেমিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এখনই কানসাস, ওহায়ো, মিনেসোটা, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, টিনেসি, ওকলাহোমার কোভিড পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। রোগীদের ভর্তি করার মতো বেড নেই হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে। আইসিইউগুলো ঠাসা। পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপোর্টের ব্যবস্থা নেই। রোগীর ভিড় এতই বেশি নতুন রোগীদের জায়গা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More