‘নির্বাচনের আগে ইচ্ছা করেই টিকার খবর চেপে রেখেছিল ফাইজার’, হেরে গিয়ে অভিযোগ ট্রাম্পের

মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর দোষেই যত গণ্ডগোল হয়েছে, টুইট করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ইচ্ছা করেই টিকার কার্যকারিতার খবর সামনে আনতে দেয়নি এফডিএ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বরের মধ্যেই টিকা নিয়ে আসবেন, নির্বাচনী প্রচারে এমনটাই দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জরুরি ভিত্তিতে আমেরিকায় ভ্যাকসিন আনা হতে পারে এমন দাবিও ছিল তাঁর। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতিই কাজে আসেনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে টিকার কার্যকারিতার খবর সামনে এনেছে মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার। আর তাতেই বেজায় চটেছেন ট্রাম্প।

মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর দোষেই যত গণ্ডগোল হয়েছে, টুইট করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ইচ্ছা করেই টিকার কার্যকারিতার খবর সামনে আনতে দেয়নি এফডিএ। ফাইজারের টিকা যে সাফল্যের পথে সে খবর কেন চেপে রাখা হল? প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। এই খবর আগে সামনে এলে নির্বাচনের দৌড়ে আরও কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারতেন বলেই দাবি ট্রাম্পের।

এখানই থেকে থামেননি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। তাঁর আরও দাবি, রাজনৈতিক চক্রান্ত করেই তাঁকে ভ্যাকসিন দৌড়ে জিততে দেওয়া হল না। তিনিই প্রথম ভ্যাকসিন নিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু পরিকল্পনা করেই নাকি টিকা নিয়ে আসার ব্যাপারটা আটকে রাখা হয়েছিল।

গতকালই টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনেছে ফাইজার। জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মেসেঞ্জার আরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে টিকা তৈরি করেছে ফাইজার। গত মাসেই সংস্থার সিইও অ্যালবার্ট বোরলা আভাস দিয়েছিলেন টিকার ট্রায়ালে ভাল পাওয়া যাচ্ছে। টিকা কার্যকরী হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। গতকালের রিপোর্টে বোরলা বলেছেন, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই টিকার ডোজ কাজে দিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে টিকার দুটি ডোজেই পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, সক্রিয় টি-লিম্ফোসাইট কোষও। কাজেই এই টিকায় সংক্রমণ থামানো যাবে বলেই দাবি ফাইজারের।

নভেম্বরেই টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে আনা হবে বলে আগেই জানিয়েছিল ফাইজার। সে সময় ফাইজারের টিকা নিয়ে কোনও মন্তব্য শোনা যায়নি ট্রাম্পের মুখে। নির্বাচনে পরাজয়ের পরে এখন মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির উপরেই দোষ চাপিয়েছেন তিনি। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা লড়াইয়ে ব্যর্থ ট্রাম্প। নিজে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পরেও তাঁর বেপরোয়া মনোভাবের সমালোচনা করেছিলেন অনেকেই। নির্বাচনী প্রচারের সময়েও লকডাউন, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের বিধি মানেনন। প্রকাশ্যেই মাস্ক খুলে ঘুরে বেরিয়েছেন। তাঁর এই বেপরোয়া মনোভাব যে আমেরিকাবাসী ভাল চোখে নেয়নি তার প্রমাণ মিলেছে ভোটের ফলাফলেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More