৩০ বছরের কমবয়সীদের অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা দেওয়া হবে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে নয়া সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজ দেওয়ার পরেই রক্ত জমাট বেঁধে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৯ জনের। ব্রিটেনের হেলথ রেগুলেটরি কমিটির অভিযোগ এমনটাই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থ্রম্বোসিস বা ওই জাতীয় জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৭৯ জন। এমন পরিস্থিতিতে টিকাকরণের প্রক্রিয়ায় বিকল্পের খোঁজ করছে সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

ব্রিটেনের ভ্যাকসিনেশন ও ইমিউনাইজেশন কমিটির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, টিকার ডোজ বয়স্ক বা মধ্যবয়স্কদের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে, তাই কম বয়সীদের টিকার ডোজ দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কমিটির প্রধান ওয়েই শেন লিম বলেছেন, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী যাঁদের কোনও ক্রনিক রোগ নেই তাঁদের অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজ দেওয়া হবে।

ব্রিটেনের হেলথ রেগুলেটরি কমিটির দাবি, গত ২৪ মার্চ অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজ দেওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের শরীরে থ্রম্বোসিস দেখা দেয়। এদের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেরিব্রাল ভেনোমাস সাইনাস থ্রম্বোসিস দেখা যাচ্ছে টিকার ডোজে। এই ধরনের ব্লাড ক্লট খুবই বিরল। আবার অন্যান্য ধরনের থ্রম্বোসিসও লক্ষ্য করা গিয়েছে, সেক্ষেত্রে রক্তে অনুচক্রিকা বা প্লেটলেটের পরিমাণ অস্বাভাবিকরকম কমে যাচ্ছে। রক্ত জমাট বেঁধে মৃত্যু হচ্ছে।

টিকার ডোজেই মৃত্যু হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে অ্যাস্ট্রজেনেকার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আগেই দাবি করেছিলেন, টিকার ডোজের কারণে রক্ত জমাট বাঁধার নিশ্চিত কোনও তথ্য মেলেনি। যাদের রক্ত জমাট বাঁধার দাবি করা হয়েছে, তাদের অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে এমন দাবিও করেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম। তাই এবার এমন লোকজনকে বেছে নেওয়া হবে যাদের শরীরে আগে থেকে কোনও রোগ নেই বা কোনও ক্রনিক অসুখ নেই।

অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগ উঠেছিল আগেই। টিকার ডোজে জটিল স্নায়ুর রোগের অভিযোগ তুলেছিলেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক। এর পরে নতুন করে টিকার ট্রায়াল করে সে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে এই ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির চ্যাডক্স টিকার ফর্মুলাতেই টিকা বানিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকা। এদিকে অক্সফোর্ডের টিকার সম্পূর্ণ ডোজ কতটা কার্যকরী সে নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। সব মিলিয়ে তাই টিকার সুরক্ষা নিয়ে অনিয়শ্চয়তা প্রবল হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ফর্মুলায় ভারতে কোভিশিল্ড বানিয়েছে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট। ভারতের টিকাকরণ প্রক্রিয়ায় সেরামের কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনই দেওয়া হচ্ছে। তবে কোভিশিল্ড টিকার ডোজে এখনও অবধি কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর মেলেনি। কোভিশিল্ড টিকা এদেশে বন্ধ করা হবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More