ব্রিটেন-স্ট্রেনের আতঙ্ক আমেরিকাতেও, দু’জনের শরীরে ঢুকেছে ‘মিউট্যান্ট’ ভাইরাস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকাতে প্রথম করোনার নতুন স্ট্রেনের খোঁজ মিলল। কলোরাডোতে একজনের শরীরে ধরা পড়েছে মিউট্যান্ট (জিনতভাবে পরিবর্তিত) ভাইরাল স্ট্রেন। উত্তর আমেরিকাতেও একজনের শরীরে নতুন স্ট্রেন ঢুকেছে বলে খবর। আমেরিকাতে এখনও অবধি করোনার নতুন প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে কিনা সে খবর মেলেনি, তবে চিন্তা বাড়ছে মার্কিন স্বাস্থ্য দফতরের।

কলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পলিস বলেছেন, ২০ বছরের দুই তরুণের শরীরে ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে। এই স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্স করে দেখা গেছে অবিকল ব্রিটেনে খুঁজে পাওয়া বি.১.১.৭ স্ট্রেনের মতোই। অথচ তাঁরা ব্রিটেনে যাননি। এমনকি গত কয়েকমাসে দেশের বাইরেও পা রাখেননি। তাহলে কীভাবে নতুন ভাইরাল স্ট্রেন তাঁদের শরীরে ঢুকল সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। তার মানে কি নতুন ভাইরাল স্ট্রেন আগে থেকেই ঢুকেছিল আমেরিকায়, সে শঙ্কাও বাড়ছে।

আক্রান্ত দু’জন খুব বেশিজনের সংস্পর্শে আসেননি বলেই দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। তাই নতুন স্ট্রেনের সংক্রমণ এখনও ব্যাপক হারে ছড়ায়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে কোভিড টেস্ট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কনট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ব্রিটেনে এখনও অবধি তিন হাজার মানুষের শরীরে করোনার নতুন স্ট্রেনের সন্ধান মিলেছে। ব্রিটেন-স্ট্রেন তথা বি.১.১.৭ স্ট্রেনে কিভাবে জিনগত বদল বা মিউটেশন হচ্ছে, সে নিয়ে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাতেই বোঝা গেছে, এই নতুন স্ট্রেন ৭০ শতাংশ দ্রুত গতিতে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। অর্থাৎ মানুষের শরীরে খুব তাড়াতাড়ি সংক্রামিত হতে পারে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সেন্টার ফর ম্যাথেমেটিক্যাল মডেলিং এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বের করেছে সায়েন্স জার্নালে। সেখানে গবেষকরা বলেছেন, নতুন স্ট্রেন যদি বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সংক্রমণে মৃত্যু বাড়বে, পাশাপাশি সংক্রমণজনিত জটিল রোগও ছড়াবে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে রোগীর ভিড় আরও বাড়বে। গবেষকদের দাবি, করোনার নতুন স্ট্রেন ৫৬ শতাংশ বেশি সংক্রামক। ব্রিটেনে খুব বেশি মাত্রায় এই স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়লে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ব্রিটেন-স্ট্রেনের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন মিউট্যান্ট স্ট্রেন নিয়েও চিন্তা বাড়ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সেই নতুন স্ট্রেন ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের এই নয়া ভ্যারিয়ান্টের নাম ‘৫০১.ভি২’ । খুব দ্রুত বিভাজিত হওয়ার ক্ষমতা আছে এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেনের। জিনগত বদল বা জেনেটিক মিউটেশনের কারণে এই নয়া স্ট্রেন আরও বেশি সংক্রামক।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার যে স্ট্রেন প্রথম মিলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় তার থেকে নতুনটি অনেকটাই আলাদা। মনে করা হচ্ছে, ভাইরাসের জিনের গঠন বিন্যাস বদলের কারণে এই নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে। করোনার রিইনফেকশন বা পুণঃসংক্রমণও ঘটাতে পারে এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেন। তবে কয়েকটি বায়োমেডিক্যাল জার্নালে দাবি করা হয়েছে, এই নয়া স্ট্রেন প্রতিষেধকের কার্যকারিতায় প্রভাব নাও ফেলতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More