অভিবাসন নীতিতে সংস্কার, গ্রিন কার্ডে নিষেধাজ্ঞা উঠছে, বাইডেন জমানায় হাসি ফুটবে ভারতীয়দের মুখে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেসিডেন্টের গদিতে বসেই অভিবাসন নীতিতে সংস্কারের কথা বলেছিলেন ডো বাইডেন। কাজও করছেন সেই মতোই। এই মুহূর্তে মার্কিন মুলুকে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের মুখে হাসি ফুটতে পারে। গ্রিন কার্ড নিয়ে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেতে যে নিষেধাজ্ঞার বোঝা চাপিয়ে রেখেছিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা কার্যত তুলে নিচ্ছেন বাইডেন।

আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই বাইডেন কংগ্রেসে একটি অভিবাসন বিল পাঠান। তাতে প্রস্তাব দেওয়া হয়, আমেরিকায় নথিপত্র ছাড়াই যে হাজার হাজার মানুষ বাস করেন, তাঁদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অপেক্ষার সময়সীমাও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মার্কিন কেংগ্রেসে পাঠানো বিলের নাম আমেরিকার নাগরিকত্ব আইন ২০২১ (ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট ২০২১)। ওই আইনে অভিবাসন পদ্ধতির আধুনিকীকরণ করা হবে। ওই বিলে আমেরিকার নারগিকত্ব লাভের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার সময়সীমা কমানো হয়েছে। আগে এই ব্যাপারটা হত দেশের কোটার ভিত্তিতে। তাতে লাইনে পিছিয়ে পড়তেন ভারতীয়রা। নতুন আইনে গ্রিন কার্ডের জন্য সুযোগ পাবেন নথিভুক্তহীন অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারবর্গ। পাশাপাশি, প্রতিটি দেশ থেকে যে সংখ্যক কর্মী গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন, তাঁদের ঊর্ধ্বসীমাও সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আমেরিকায় পাকাপাকি ভাবে থাকার ভিসা (গ্রিন কার্ড) দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু’মাসের জন্য সেই নির্দেশিকা জারি করা হয় যাতে বাদ রাখা হয় ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, উদ্যোগপতির মতো অনেককে। এই নির্দেশিকায় আমেরিকার বহু অনাবাসী ভারতীয় এবং দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কারণ, ট্রাম্প ৬০ দিনের জন্য গ্রিন কার্ড দেওয়া বন্ধ রাখার কথা বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু দু’মাস পরেই যে সেই দরজা ফের খুলবে, সেই নিশ্চয়তা দেননি। বরং নির্দেশিকায় বলা হযেছিল, সময়সীমা শেষের ১০ দিন আগে অর্থনীতির অবস্থা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  ট্রাম্প জমানায়, প্রত্যেক দেশ থেকে কতজনকে আমেরিকায় চাকরি করার জন্য গ্রিন কার্ড দেওয়া হবে, তার সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। বাইডেন এই নিয়ম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। এর ফলে ভারতের কয়েক হাজার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী উপকৃত হবেন।

আমেরিকায় এখন প্রতি বছর ১ লক্ষ ৪০ হাজার গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়। সেই সংখ্যা একই থাকছে বলে জানা গিয়েছে। ট্রাম্পের আমলে কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে আমেরিকায় আসা নিষেধ করে দেওয়া হয়েছিল। বাইডেন সেই নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিচ্ছেন। ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন। বাইডেন সেই পাঁচিল তৈরির কাজও বন্ধ করে দিয়েছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More