৯৫ শতাংশের বেশি কাজ করেছে স্পুটনিক ভি টিকা, বড় দাবি রাশিয়ার

তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরুর পরে রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনসস্টিটিউট দাবি করেছিল টিকা ৯১.৪ শতাংশ কার্যকরী। আজ ফের ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনে গ্যামেলিয়া জানিয়েছে, টিকা আরও ভাল কাজ করেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে টিকা ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যকরী হয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোডার্না টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে ঘোষণার পরেই, টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে আনল রাশিয়া। তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরুর পরে রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনসস্টিটিউট দাবি করেছিল টিকা ৯১.৪ শতাংশ কার্যকরী। আজ ফের ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনে গ্যামেলিয়া জানিয়েছে, টিকা আরও ভাল কাজ করেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে টিকা ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যকরী হয়েছে।

চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?

রাশিয়ার গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরুর ২১ দিন পরে প্রথম রিপোর্ট সামনে আনা হয়েছিল। সেটা ছিল টিকার প্রথম ডোজের ক্লিনিকাল রিপোর্ট। দেখা গিয়েছিল স্পুটনিক ভি টিকার একটা ডোজে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে শরীরে। টিকা ৯১.৪ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে।

২১ দিনের পরে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় স্বেচ্ছাসেবকদের। আরও ২১ দিন পরে অর্থাৎ প্রথম ডোজ দেওয়ার পর থেকে মোট ৪২ দিন পরে দেখা যায় টিকা আরও বেশি ভাল কাজ করছে। ইমিউন পাওয়ার আরও বেড়েছে। রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণও বেশি। সব মিলিয়ে দেখা গেছে টিকা ৯৫ শতাংশেরও বেশি কার্যকরী হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেডিক্যাল জার্নাল ‘পিয়ার-রিভিউড মেডিক্যাল জার্নাল’-এ এই ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনেছে গ্যামেলিয়া।

 

অক্সফোর্ডের মতোই ভেক্টর ভ্যাকসিন তৈরি করেছে পুতিনের দেশ

রাশিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি। সংস্থার ডিরেক্টর অলেক্সান্ডার গিন্টসবার্গ বলেছেন, সরাসরি করোনার স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার না করে অন্য ভাইরাসের সঙ্গে আরএনএ প্রোটিন মিলিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী যে অ্যাডেনোভাইরাস, তাকেই ভেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই অ্যাডেনোভাইরাস মামুলি সর্দি-জ্বর ছড়ায়, প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তার মধ্যে করোনার স্পাইক (S) প্রোটিন মিশিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, করোনার যে আরএনএ প্রোটিন স্ক্রিনিং করা হয়েছে তাকে আগে নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, যাতে এই ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকলে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় না বাড়তে পারে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিও অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। সেই একই পদ্ধতিতে টিকা তৈরি করেছে রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনস্টিটিউটও। ভাইরোলজিস্টদের দাবি, সেফটি ট্রায়ালে এই টিকার সাফল্য দেখেই মানুষের শরীরে ইনজেক্ট করার পরিকল্পনা করা হয়।

বিশ্বে প্রথম টিকা নিয়ে আসার দাবি করে রাশিয়াই। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যে ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, তাকেই মনে করে টিকার নাম রাখা হয় স্পুটনিক ভি।

 

কীভাবে এগিয়েছে টিকার ট্রায়াল?

১৮ জুন থেকে টিকার ট্রায়াল শুরু করে গ্যামেলিয়া। ৭৬ জন স্বেচ্ছাসেবককে দুটি দলে ভাগ করে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ৩৮ জনকে লিকুইন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করা হয়, বাকি ৩৮ জনকে  টিকার পাওডার দেওয়া হয়।  রাশিয়ার ক্লিনিকাল ট্রায়াল অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর ভেতলানা জ়্যাভিডোভা বলেন, একসঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করা হয় ভ্যাকসিনের। দাবি, দুই পর্যায়তেই সাফল্য মিলেছে। টিকার দুটি ডোজে শরীরেই কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দুটি ডোজ দেওয়ার মাঝের সময়ে যে কয়েকজনের শরীরে সাইড এফেক্টস দেখা গিয়েছিল তাও সামান্য।  কিছুদিনের মধ্যে সেরে উঠেছিলেন তাঁরা। এই দুই পর্বের ট্রায়ালের পরেই আমজনতার জন্য টিকা নিয়ে আসে রাশিয়া। তাতেই বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়। কীভাবে অল্প সংখ্যক মানুষকে টিকা দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে সে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে নানা মহলে।

নানা তর্ক-বিতর্কের মাঝেই স্পুটনিক ভি টিকার তৃতীয় পর্বের বৃহত্তর ট্রায়াল শুরু হয় রাশিয়ায়। এই পর্বে ৪০ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে গ্যামেলিয়া। ট্রায়াল রিপোর্টে বলা হয়েছে, টিকার প্রথম ডোজ ২২ হাজার জনকে দেওয়া হয়েছে। ১৯ হাজারের বেশিকে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। এই দুই পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট দেখেই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে টিকা ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যকরী হয়েছে।

রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ভারতে স্পুটনিক ভি টিকার ট্রায়াল শুরু করেছে ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরি। এ সপ্তাহ থেকেই টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু হচ্ছে দেশে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More