ক্যাপিটলে হিংসার জের, ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে দিল গুগল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিনটে টুইটার অ্যাকাউন্টে আগেই তালা পড়ে গিয়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও সাময়িকভাবে বন্ধ। এবার ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেলও সাফ জানিয়ে দিল, প্রাইভেসি পলিসি মেনে চলেননি ট্রাম্প। সম্প্রতি তাঁর চ্যানেলে আপলোড করা বিষয়গুলি থেকে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। উস্কানিমূলক কমেন্টও করেছেন তিনি। কাজেই সাময়িকভাবে ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেলও বন্ধ হয়ে গেল আজ থেকে।

আগামী সাতদিনের জন্য ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেলে কোনওরকম ভিডিও আপলোড করা যাবে না। অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউটিউব চ্যানেলের কোনও কনটেন্টে কমেন্ট করতেও পারবেন না তিনি। সেদিকেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিবৃতি দিয়ে ইউটিউব জানিয়েছে, ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার সময় থেকেই ট্রাম্পের চ্যানেলে নানারকম উস্কানিমূলক কনটেন্ট আপলোড করা হয়েছিল। চ্যানেলের প্রাইভেসি পলিসির কোনও শর্তই মানা হয়নি। তাই সাময়িকভাবে ট্রাম্পের চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। দিনকয়েকের মধ্যে নতুন যতগুলি কনটেন্ট আপলোড করা হয়েছে সেগুলিও সরিয়ে দিয়েছে ইউটিউব।

ক্যাপিটলে হিংসার জেরে ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্টও পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টুইটার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকেই একের পর এক বিভ্রান্তিকর টুইট করে চলেছেন ট্রাম্প। কখনও ভোট দুর্নীতির অভিযোগ চাপিয়েছেন ডেমোক্র্যাটদের ওপরে, তো কখনও বলেছেন ব্যালটে দেদাড় কারচুপি চলছে। সে সময়ও টুইটার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে টুইটারের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করছেন ট্রাম্প। ভোটের সময় শুধু নয়, করোনা সংক্রমণ নিয়েও আগে একাধিক বিভ্রান্তিকর টুইট করার জন্যও ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার সময়েও উস্কানিমূলক টুইট করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। প্ররোচনায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে প্রথমে ১২ ঘণ্টার জন্য ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে সতর্ক করা হয়েছিল, তিনি যদি ফের নিয়ম ভাঙেন তাহলে পাকাপাকি ভাবে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এরপরেও মুখ বন্ধ করেননি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার খর্ব করার দিকে এগিয়ে চলেছে টুইটার। ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে টুইটার কর্মীরা। কটি টুইটে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর সমর্থকদের অসম্মান করা যাবে না। অন্য টুইটে তিনি বলেন বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন না তিনি। এই দুই টুইটের পরেই পদক্ষেপ নেয় টুইটার কর্তৃপক্ষ। পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যায় ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও বন্ধ হয়ে যায় সাময়িকভাবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More