বাংলার কংগ্রেস পর্যবেক্ষক জিতিন প্রসাদ বিজেপিতে যোগ দিলেন, ফের ধাক্কা সাবেক পার্টিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাহুল-প্রিয়ঙ্কার ঘনিষ্ঠ নেতা জিতিন প্রসাদ বুধবার বিজেপিতে যোগ দিলেন। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে জিতিন পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক ছিলেন। ক’দিন আগে সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। সাবেক জাতীয় দলের সেই তরুণ নেতাই এ বার গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন।

জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পর আরও এক তরুণ কংগ্রেস নেতা চলে গেলেন বিজেপিতে। মঙ্গলবার তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে দেখা করেন। তারপরেই শোনা যায়, জিতিন প্রসাদ বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন।

৪৭ বছর বয়সী জিতিন প্রসাদ সম্পর্কে আগেও নানা গুজব শোনা গিয়েছে। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে শোনা গিয়েছিল, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। গত ২০ বছর ধরে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। দলের নানা ব্যাপারে কিছুদিন ধরেই তিনি ছিলেন হতাশ। সেই হতাশার কথা তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। গত বছর কংগ্রেসের ২৩ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে বলেন, দলে একজন পুরো সময়ের নেতা চাই। পরে ওই ২৩ জন বিক্ষুব্ধ নেতাকে ‘জি-২৩’ গ্রুপ নাম দেওয়া হয়। জিতিন প্রসাদ এই জি-২৩ গ্রুপের সদস্য ছিলেন।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা হয়েছিল, জি-২৩ গ্রুপ কার্যত দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। এরপরেও জিতিন প্রসাদকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটে কংগ্রেসের প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ভোটে কংগ্রেস একটিও আসন পায়নি। ভোটের আগে জিতিন প্রসাদ প্রকাশ্যেই বলেন, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে তাঁর দল ঠিক কাজ করেনি।

জিতিন প্রসাদ একসময় উত্তরপ্রদেশের ধাউরাহরা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হয়েছিলেন। আগামী বছরেই বিধানসভা ভোট হবে ওই রাজ্যে। তার আগে জিতিনপ্রসাদের দলত্যাগ কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দেবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
জি-২৩ গ্রুপের সদস্যরা সনিয়াকে চিঠি দেওয়ার পরে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস থেকে দাবি উঠেছিল, তাঁদের শাস্তি দিতে হবে। তখন বিশেষ করে জিতিন প্রসাদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এর আগেও তাঁর পরিবার নেহরু-গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে। ১৯৯৯ সালে জিতিন প্রসাদের বাবা জিতেন্দ্র প্রসাদ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হন। তিনি মারা যান ২০০২ সালে। মনমোহন সিং সরকারের আমলে জিতিন প্রসাদ কেন্দ্রে মন্ত্রী হন।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More