অনন্তনাগে জঙ্গি হামলায় নিহত কাশ্মীরি পণ্ডিত, নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

লারকিপোরা এলাকার লুকবাওয়ান গ্রামের সরপঞ্চ ছিলেন অজয় পণ্ডিত ওরফে অজয় ভারতী। বয়স বছর চল্লিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধে বেলা নিজের বাগানে গাছের পরিচর্চা করছিলেন তিনি। আচমকাই এলোপাথাড়ি গুলি চলতে শুরু করে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগে জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারালেন কাশ্মীরি পণ্ডিত অজয় ভারতী। সোমবার সন্ধে ৬টা নাগাদ নিজের বাড়ির বাগানে বেড়াচ্ছিলেন অজয় পণ্ডিত। সেই সময় হামলা চালায় জঙ্গিরা। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা।

লারকিপোরা এলাকার লুকবাওয়ান গ্রামের সরপঞ্চ ছিলেন অজয় পণ্ডিত ওরফে অজয় ভারতী। বয়স বছর চল্লিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধে বেলা নিজের বাগানে গাছের পরিচর্চা করছিলেন তিনি। আচমকাই এলোপাথাড়ি গুলি চলতে শুরু করে। বাগানে ঢুকে পড়ে কয়েকজন জঙ্গি। সামনে থেকে গুলি করে পণ্ডিতকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।

জঙ্গি সন্ত্রাস ও বিরুদ্ধ প্রচারের ফলে ’৯০-এর দশকের গোড়ায় উপত্যকা ছাড়েন কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়। দেশের অন্য প্রান্তে শরণার্থী শিবিরে স্থান হয় তাঁদের। ১৯৯০ সালে পরিবার নিয়ে দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে চলে গিয়েছিলেন অজয় ভারতী। তবে পরে আবার ফিরে আসেন। পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়ান। জিতে গ্রামের সরপঞ্চ হয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের বেশি দক্ষিণ কাশ্মীরে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে। এনকাউন্টারে খতমও হয়েছে অনেক জঙ্গি। পুলিশের অনুমান, কাশ্মীরি পণ্ডিতের উপরে হামলা চালিয়েছিল যে জঙ্গিরা তারা সম্ভবত গ্রামের আশপাশেই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে।

কাশ্মীরি পণ্ডিতের উপর হামলার ঘটনায় সমালোচনা তুঙ্গে। সরকার নিরাপত্তা দিতে পারেনি, এমন দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, কাশ্মীরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন কাশ্মীরি পণ্ডিত। তাঁর পরিবার ও পরিজনদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রইল। আমরা তোমার সঙ্গে আছি, হিংসা কখনও জিততে পারে না।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের কথায়, “গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার মরিয়া চেষ্টা করছে সন্ত্রাসবাদীরা। এই হিংসা ছড়ানোর চেষ্টাকে বরদাস্ত করা যায় না।” জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গুলাম আহমেদ মীর জানিয়েছেন, নিহত কাশ্মীরি পণ্ডিতের কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। এই খুনের বিচার চাই। তদন্ত করুক সরকার।

সেনা সূত্র জানাচ্ছে, জানুয়ারি থেকে কাশ্মীরে মোট ৮৪ জন জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। হিজবুল কম্যান্ডার রায়াজ নাইকুকে খতম করা এ যাবৎ উপত্যকায় সেনা ও পুলিশের অন্যতম বড় সাফল্য। তাছাড়াও  রবিবার সোপিয়ানের রেবান গ্রামে নিহত হয় ৫ জন জঙ্গি।  সোমবার সকালে পিঞ্জরা গ্রামে এনকাউন্টারে নিকেশ করা হয় আরও ৪ জনকে। ইতিমধ্যেই পুলওয়ামায় সেনা এনকাউন্টারে খতম হয়েছে জইশ-মাথা মৌলানা মাসুদ আজহার ঘনিষ্ঠ জইশের বোমা বিশেষজ্ঞ, জঙ্গি প্রশিক্ষক ফৌজি ভাই ওরফে লম্বু। তার সঙ্গেই খতম হয়েছে জইশের আরও তিন সক্রিয় সদস্য।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More