কলকাতা বিমানবন্দরে চার রাজ্যের যাত্রীদের কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক, নির্দেশিকা রাজ্য সরকারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। কলকাতায় প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে কলকাতা বিমানবন্দরে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট দেখানো বাধ্যতামূলক করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিশেষত, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, কেরল ও তেলঙ্গানা থেকে যে যাত্রীরা কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন, তাঁদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ দেখাতে হবে। তাহলেই কলকাতায় নামার অনুমতি দেওয়া হবে।

সরকারি সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্র, কেরল, কর্নাটক ও তেলঙ্গানা থেকে আসা যাত্রীদের বিমানে ওঠার ৭২ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তবেই কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে র‍্যাপিড টেস্ট নয়, শুধুমাত্র রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের রিপোর্ট দেখানোরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ পাঁচ হাজার ছুঁতে চলেছে। গতকালই নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪ হাজার ৮১৭। শুধুমাত্র কলকাতাতেই একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন হাজারের বেশি। ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে রাজ্যে। ২৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এর মধ্যেই। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্যে দৈনিক করোনা সংক্রমণের চেহারাটা ছিল বেশ ক্ষীণ। কিন্তু একমাসের মধ্যেই উলটপুরাণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের হার ৮ শতাংশের বেশি। ক্রমেই তা বাড়ছে।

পাশাপাশি, করোনার নয়া প্রজাতিও ঢুকেছে শহরে। ইতিমধ্যেই চার জনের শরীরে খুঁজে পাওয়া গেছে ব্রিটেন স্ট্রেন, দক্ষিণ আফ্রিকার মিউট্যান্ট স্ট্রেনে আক্রান্ত একজন। স্বাস্থ্যভবন আগেই জানিয়েছিল রাজ্যে নতুন আটজনের শরীরে করোনার বিদেশি স্ট্রেনের হদিশ স্বাস্থ্যকর্তারা বলছেন, মার্চের ৮ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিলেন তাঁদের আটজনের শরীরে করোনার বিদেশি প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ব্রিটেন স্ট্রেন তথা কোভিডের সুপার-স্প্রেডার বি.১.১.৭ স্ট্রেনে আক্রান্ত পাঁচ জন, যাঁদের মধ্যে দু’জন হাওড়া ও নদিয়ার, দু’জন উত্তরবঙ্গের এবং একজন জামশেদপুরের বাসিন্দা। আক্রান্তদের বয়স ২৫ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। এর মধ্যেই যদি মহারাষ্ট্র থেকে করোনার ডবল ভ্যারিয়ান্ট শহরে ঢুকে পড়ে তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে। মহারাষ্ট্র, কেরল, কর্নাটকে এখন করোনার ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেন বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। জিনের গঠন বদলে এই নতুন স্ট্রেন আরও বেশি ছোঁয়াচে। তাই বাড়তি সতর্কতা অবশ্যই দরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More