শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩

ছ’দিনের মাথায় ফের আগুন আতঙ্ক মেট্রোয়, ভোগান্তি এ বার দমদমে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অফিস টাইমে ফের মেট্রোয় আগুন আতঙ্ক। গত ২৫ জানুয়ারি চলন্ত মেট্রোয় আগুনের ফুলকি দেখা গিয়েছিল টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে। সেই ঘটনার পর এক সপ্তাহও কাটেনি। ফের মেট্রোর কামরায় দেখা গেল আগুনের ফুলকি।

৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে দমদম থেকে কবি সুভাষের উদ্দেশে রওনা হয় একটি নন এসি মেট্রো। দমদম স্টেশন ছাড়ার সময়েই তিনটি কামরার নীচ থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন যাত্রীরা। সেই সঙ্গে যাত্রীরা দেখেন একটি কামরা থেকে বেরোচ্ছে আগুনের ফুলকিও। দাঁড়িয়ে পড়ে অফিস টাইমের যাত্রী বোঝাই মেট্রো। বেজে ওঠে ফায়ার অ্যালার্ম। আচমকাই এই অ্যালার্ম শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কামরার ভিতরে থাকা যাত্রীরা। বেরোনোর জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায় তাদের মধ্যে। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনজন যাত্রী।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে দমকল। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় মেট্রোর ভিতর থাকা যাত্রীদের। এক দমকল আধিকারিক জানিয়েছেন, দু’জন অসুস্থ যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আর এক তরুণীকে পাঠানো হয়েছে আরজিকর হাসপাতালে। জানা গিয়েছে তরুণী হাসনাবাদের বাসিন্দা। ঘটনার বেশ খানিকক্ষণ পর চালু হয় মেট্রো।

বারবার অফিস টাইমে মেট্রোয় এ ভাবে আগুন আতঙ্ক ছড়ানোয় স্বভাবতই বিরক্ত যাত্রীরা। এ দিন দমদম মেট্রো স্টেশনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীদের একটা বড় অংশ। এক যাত্রীর কথায়, “প্রতিবারই কর্তৃপক্ষ বলে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষা করে কী দেখেন যে কদিন পরেই আবার একই ঘটনা ঘটছে।“ আর এক যাত্রীর কথায়, “মেট্রোয় যাতায়াত না করে উপায় নেই। কিন্তু ব্যাপারটা দিন দিন ভীষণ আতঙ্কের হয়ে যাচ্ছে। যে কোনও দিন কোনও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আতঙ্কে ভুগছি।“

বিপত্তি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মেট্রো রেলের। গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আচমকাই টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে আগুনের ফুলকি দেখতে পান যাত্রীরা। ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোঁয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেট্রোর থার্ড লাইনে দেখতে পাওয়া যায় আগুনের ফুলকি। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে। শুরু হয় হুড়োহুড়ি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। খানিকক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।

আগুন আতঙ্কে সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায় পরিষেবা। টালিগঞ্জ থেকে দমদম পর্যন্ত প্রায় এক ঘন্টা বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। অফিস টাইমের ব্যস্ততায় ভিড় বাড়তে থাকে বিভিন্ন স্টেশনে। মাঝপথেই বেশ কিছু স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে মেট্রো। ভিতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তবে এই ঘটনায় কোনও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েননি।

এই ঘটনার আগে ২০১৮ সালের শেষ সপ্তাহে ২৭ ডিসেম্বর আচমকাই আগুন লাগে মেট্রোর এসি রেকে। ময়দান স্টেশনে ঢোকার আগেই ঘটে বিপত্তি। থেকে যায় ট্রেন। ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা কামরা। অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪০ জন যাত্রী। এঁদের মধ্যে সাত জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। আগুন আতঙ্কের জেরে প্রায় ১৩ মিনিট বন্ধ ছিল মেট্রো পরিষেবা।

জানা গিয়েছিল সে দিন দমদম থেকে কবি সুভাষের দিকে রওনা দিয়েছিল একটি এসি মেট্রো। কিন্তু বিকেল ৫টা ১০ নাগাদ, ময়দান স্টেশনে ঢোকার কয়েক মিটার আগে ট্রেনের ভিতরে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, জ্বলন্ত অবস্থাতেও ছুটছিল মেট্রো। হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায় এসি রেক। যাত্রীদের অভিযোগ, ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট পর যাত্রীদের উদ্ধারকাজ শুরু হয়। যার ফলে আতঙ্ক ছড়ায়, যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকী আতঙ্কের জেরে মেট্রোর জানালা ভাঙারও চেষ্টা চলে। পরে জানা যায়, যাত্রীদের উদ্ধার করতেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করা হয়। এসি রেকের কাচ ভেঙে উদ্ধার করা হয় যাত্রীদের। সুড়ঙ্গ দিয়ে বার করা হয় তাঁদের। অসুস্থদের সেখান থেকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন-

নীচে খাটে শুয়ে স্ত্রী, উপরে ঝুললেন মুম্বইয়ের অভিনেতা!

Shares

Comments are closed.