শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

আবার অটো দৌরাত্ম্য, নাগেরবাজারে বেধড়ক মার খেলেন আইটি কর্মী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভর সন্ধেবেলায় যাত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল অটোচালকদের বিরুদ্ধে। দমদম ক্যান্টনমেন্টের বাসিন্দা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অভিজিৎ বিশ্বাসের অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে তাঁর মাথাও ফাটিয়ে দেয় কয়েকজন অটোচালক। মাথায় পাঁচটি সেলাইও পড়েছে ওই যাত্রীর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জন অটোচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা। অভিজিৎবাবুর অভিযোগ এ দিন সকালে অফিস যাওয়ার সময় নাগেরবাজার অটোস্ট্যান্ডে একটি অটো আচমকাই পিছন থেকে এসে ধাক্কা মারে তাঁকে। প্রতিবাদ করায় কপালে জোটে মারধর। অফিসের তাড়া থাকায় সেই সময় চলে যান অভিজিৎ। তবে এ দিন সন্ধ্যায় ফেরার সময় দেখেন দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনেই বসে রয়েছেন সকালবেলার ওই অটোচালকরা। অভিজিৎ বলেন, “ওদের দেখেই আমি অটো ইউনিয়নে যাই অভিযোগ জানাতে। কিন্তু সবটা শোনার পরেও কেউ আমায় পাত্তা দেয়নি। উল্টে একজন স্টার্টার বেশ কয়েকজন অটোচালককে ডেকে জড়ো করেন।” অভিজিতের অভিযোগ, এরপরেই ৫-৬ জনের একটি দল চড়াও হয় তাঁর উপর। চলে বেধড়ক মারধর। আচমকাই পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একজন তাঁর মাথায় আঘাত করে বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন অভিজিৎ।

তবে অটোচালকদের একাংশের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে নাগেরবাজার স্ট্যান্ডে গাড়ি ব্যাক করছিলেন এক চালক। বারবার অভিজিতকে সরে যেতে বলার পরেও তিনি সম্ভবত শুনতে পাননি এবং সরেনওনি। এই সময়েই একটি অটো সামান্য ঠেকে যায় অভিজিতের পায়ে। তাতেই নাকি বেজায় ক্ষেপে স্ট্যান্ডে হাজির অটোচালক এবং স্টার্টারের উদ্দেশে গালিগালাজ করতে শুরু করেন অভিজিৎ। এমনকী এ দিন সন্ধ্যাতেও এক স্টার্টারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন অভিজিৎ। তারপরেই শুরু হয় ঝগড়া এবং ধস্তাধস্তি। আর সেই সময়েই পড়ে গিয়ে অভিজিৎ মাথায় চোট পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওই অটোচালকরা।

এই চাপানউতোর সত্ত্বেও এই নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে কোনও দ্বিমত নেই যে অটোচালকের হাতে যাত্রী নিগ্রহের ঘটনা প্রায়শই ঘটছে কলকাতায়। বরং বলা ভালো চালকের হাতে যাত্রী পেটানো এখন শহরের প্রায় রোজকার ঘটনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চালকদের বক্তব্য থাকে যে খারাপ ব্যবহার করেন যাত্রীরা। আর তারপরে ঝামেলা শুরু করেন নাকি যাত্রীরাই। কিন্তু কলকাতা শহরের অটোযাত্রীদের একটা বড় অংশ রীতিমতো ক্ষোভে ফুটছেন। কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত রুট উল্টোডাঙা থেকে সল্টলেকের ভিতরে বিভিন্ন ব্লক কিংবা সেক্টর ফাইভের ভাড়া প্রায় চেরাপুঞ্জির আবহাওয়ার মত ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয় বলেও দাবি করেছেন যাত্রীদের একটা বড় অংশ। একই দূরত্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম ভাড়া চাওয়া হয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন যাত্রীরা। কলকাতার বিশেষ বিশেষ উৎসব-পার্বণের সময়েও চড়চড় করে বেড়ে যায় অটো ভাড়া। এমনই অভিযোগ জানিয়েছেন অটোর নিত্যযাত্রীরা। এমনকী ছিঁটেফোঁটা বৃষ্টি থেকে সামান্য জ্যাম, সবেতেই ভাড়া বেড়ে যায় অটোর।

আর এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই কপালে জুটবে গালিগালাজ। ভাগ্য খারাপ থাকলে মারধরও খেয়ে যেতে পারেন অটোচালকের হাতে। আর যদি ‘মার্কড’ হয়ে যান তাহলে তো কথাই নেই। পরের দিন অফিস যাওয়ার সময় আর অটো পাবেন না। কেউ নিজের অটোতে তুলতে চাইবে না আপনাকে। মাস খানেক আগে যাত্রী-চালক খণ্ডযুদ্ধে ধুন্ধুমার বেঁধে যায় উল্টোডাঙায়। অবস্থা সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। যাত্রীদের একাংশের তরফে অভিযোগ ছিল, ন্যায্য ভাড়ার প্রায় পাঁচগুণ বেশি ভাড়া চেয়েছিলেন চালকরা।

Shares

Comments are closed.