বিধানসভার গেটের মাথায় শিক্ষিকারা, শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের আন্দোলনে নাস্তানাবুদ পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক আন্দোলন যেন পিছু ছাড়ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের। এর আগে ধর্মতলা, বিকাশ ভবন, সেন্ট্রাল পার্ক, প্রেস ক্লাবের সামনের অংশ—কলকাতার বহু জায়গা সাক্ষী থেকেছে। নানান স্তরের শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে শহর ও শহরতলির অনেক জায়গা। শিক্ষকদের মিছিল ধেয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকেও। এবার তা আছড়ে পড়ল বিধানসভার গেটে। যা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বাঁধল সেখানে। মহিলা আন্দোলনকারীদের বাগে আনতে নাস্তানাবুদ হতে হল পুলিশকে।

এদিন ‘শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ’ সমকাজে সমবেতনের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি ডেকেছিল। তা যে এই আকার নেবে তা বোধহয় কারও ধারণা ছিল না। দেখা যায় একাংশের আন্দোলনকারী (মহিলা) পৌঁছে যান বিধানসভার ৬ নম্বর গেটে। একদল গেটের সামনে বসে পড়েন। আর কয়েক জন গেটের মাথেয় উঠে টপকে ভতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।

আচমকা এমন ঘটনায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন পুলিশকর্মীরা। মহিলা পুলিশ না থাকায় বেশ কিছুক্ষণ পুলিশ কিছু করতে পারেনি। পরে মহিলা পুলিশের বাহিনী আসে ঘটনাস্থলে। তারপর আন্দোলনকারীদের টানতে টানতে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়।

এদিন থেকেই বিধানসভার অধিবেশন শুরু হয়েছে। শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, বার বার দাবি করা সত্ত্বেও সরকার সমকাজে সমবেতনের বিষয়ে কান দিচ্ছে না। বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার কলকাতায় বিক্ষোভ ডেকেছিল শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ।

জানা গিয়েছে, তাতে যোগ দিতে আসা একটি অংশ সন্তর্পণে গেরিলা কায়দায় বিধানসভার গেটে পৌঁছে যায়। যে শিক্ষিকারা গেটের মাথায় উঠে পড়েছিলেন, তাঁদের নামাতে ঘাম ঝরাতে হয় পুলিশকে।

এ নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, এর পিছনে রাজনৈতিক যোগ রয়েছে। আর তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “জ্যোতিবাবু যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখনও এমন হয়েছে। বিধানসভা কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। এটা মাথায় রাখা উচিত। বিক্ষোভ যেন বেআইনি না হয়। বিধানসভা সর্বদলীয় জায়গা। এর একটা পবিত্রতা আছে। আমরা কোনও দিন এভাবে ডিঙিয়ে যাইনি।”

সুব্রতবাবুর কথা শুনে এক বাম বিধায়ক বলেন, “সুব্রতবাবুর নেত্রী বিধানসভা ভাঙচুর করে গণতন্ত্রের মন্দির বলে ধূপ-ধূনো জ্বেলেছিলেন। বাংলার মানুষ সব জানেন।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More