একা ড্রাইভ করলেও পরতে হবে মাস্ক, গাড়ির ভেতর বাধ্যতামূলক, নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাড়ির ভেতরে একা থাকলে অথবা একা ড্রাইভ করলে ফেস-মাস্ক অতটা জরুরি নয়, শুরুতে এমনটাই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কিন্তু করোনা যেভাবে তার চরিত্র বদলে আরও বেশি ছোঁয়াচে ও সংক্রামক হয়ে উঠেছে, তাতে রাস্তাঘাটে বের হলেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বাতানুকূল গাড়িতে কম তাপমাত্রায় ভাইরাস বেশি সময় টিকে থাকতে পারে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেও পারে। তাই একা গাড়ি চালালেও মাস্ক পরা একান্তই জরুরি, এমনটাই নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

রাস্তাঘাটে, গণপরিবহনে মাস্ক পরছেন না অনেকেই। দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো মেট্রো শহরে মাস্ক ছাড়া রাস্তায় ঘুরতে দেখলে মোটা টাকা ফাইন বা কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি বিমানবন্দরে ঠিকমতো মাস্ক না পরলে বা বিমানে যাত্রীরা সোশ্যাস ডিস্টেন্সিং না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে ডিজিসিএ। এবার সে পথে হেঁটেই দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ জারি করেছে, গাড়ি চালানোর সময় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতিভা এম সিং বলেছেন, অতিমহামারী এত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে যে নিজেদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করতেই হবে। বিচারপতির বক্তব্য, “গাড়িতে একা থাকা মানে এমন তো নয় ভাইরাসের সংক্রমণ হবে না। তাই সুরক্ষার কথা মাথায় রাখতেই হবে। ভ্যাকসিন নেননি যাঁরা তাঁরা তো বটেই, যাঁরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাঁদেরও অতি অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। এই মাস্কই হল আমাদের সুরক্ষা-কবচ।”

কীভাবে গাড়ির ভেতর করোনা ছড়ায়, পড়ুন
গাড়ির ভেতরে করোনা থেকে বাঁচবেন কীভাবে, উপায় বললেন গবেষকরা

বিচারপতি প্রতিভা বলছেন, বাতানুকূল গাড়িতে কম তাপমাত্রায় ভাইরাস আরও তাড়াতাড়ি ছড়াতে পারে। তাছাড়া ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়ালে অনেক সময়েই চালক গাড়ির কাঁচ নামিয়ে দেন। সে সময় বাইরে থেকে ধুলোবালি, জলকণায় ভাইরাস ঢুকতে পারে গাড়ির ভেতরে। তাই সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গাড়ির ভেতরে মাস্ক পরা জরুরি কিনা সে সংক্রান্ত বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিলেন আইনজীবী সৌরভ শর্মা। মাস্ক ছাড়া গাড়ি চালানোর জন্য তাঁর কাছ থেকে ৫00 টাকা ফাইন নিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তার পরেই হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন আইনজীবী। সেই মামলার রায়েই আজ দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতিভা সিং তাঁর পর্যবেক্ষণের কথা জানান।

বস্তুত, বন্ধ গাড়ির ভেতরে কী ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস? এ প্রশ্ন এখন বেশিরভাগেরই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস এয়ারবোর্ন, অর্থাৎ বাতাসে ভেসে ছড়াতে পারে। সেদিক থেকে গাড়ির ভেতরে ভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কাও বেশি। পাশে বসা যাত্রীর শরীরে যদি বিন্দুমাত্র সংক্রমণ থেকে থাকে, তাহলে জলকণায় ভেসে সে ভাইরাস চলে আসতে পারে খুব দ্রুত। আর যদি একাও থাকা হয়, তাহলেও এসি-র কম তাপমাত্রায় ভাইরাসের বিভাজন তাড়াতাড়ি হয়। বেশিসময় ধরে গাড়ির ভেতরে বদ্ধ বাতাসে ভাইরাসের জলকণা বেঁচে থাকতে পারে। কোনও সারফেস বা পদার্থের ওপরেও জমে থাকতে পারে। কাজেই সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা মোটেও কম নয় ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More