লাল মাটির ধুলো উড়িয়ে মঙ্গলে নামছে পারসিভিয়ারেন্স, শব্দ শুনিয়ে ভিডিও দেখিয়ে তাক লাগাল নাসা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলের মাটিতে অবতরণের সেই আতঙ্ক দক্ষতার সঙ্গেই কাটিয়েছিল নাসার পারসিভিয়ারেন্স। কোনও ত্রুটি হয়নি। শেষ সাত মিনিট ছিল দমবন্ধকর অবস্থা। সেই চূড়ান্ত সময়ের ভিডিও সামনে এনেছে নাসা। বিরাট প্যারাশ্যুট খুলে গতি কমিয়ে পালকের মতো নেমে আসছে পারসিভিয়ারেন্স, ধুলো উঠছে লালমাটির। শব্দ হচ্ছে। সেই অডিও এবং ভিডিও দুটোই সামনে এনে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মঙ্গল-অভিযানের বিজ্ঞানীরা।

মঙ্গলের কক্ষপথ থেকে বায়ুমণ্ডলে (মার্সিয়ান অ্যাটমসস্ফিয়ার) ঢুকে পড়ার সময় থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। লাল গ্রহের দুর্গম পাথুরে জ়েজোরে ক্রেটারে ল্যান্ড করা সহজ কথা নয়। তার ওপর গতিবেগও ফ্যাক্টর, সামান্য হেরফের হলেই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে ল্যান্ডার। নাসার বিজ্ঞানীরা ভিডিওতে দেখিয়েছেন, লাল মাটিতে মঙ্গলযানের ল্যান্ড করার আগে গতি ছিল ঘণ্টায় ২০ হাজার ১০০ কিলোমিটার। মঙ্গলের মাটি থেকে উচ্চতা যখন সাত মাইল অর্থাৎ প্রায় ১১ কিলোমিটারের মতো, তখন থেকেই গতি কমতে শুরু করে মঙ্গলযানের।

NASA releases first audio from Mars, video of landing

স্কাইক্রেন ম্যানুভারে ছয় ইঞ্জিনের জেটপ্যাক আলতো করে রোভারকে নামিয়ে দিয়েছে লাল মাটিতে। পালকের মতো ল্যান্ডারকে লাল মাটিতে নামিয়ে দেওয়ার জন্য প্রায় ৭০.৫ ফুট (২১.৫ মিটার) চওড়া বিশাল একটা প্যারাশ্যুট খুলে যায়। সেই প্যারাশ্যুটে ভেসে ধীরে ধীরে মঙ্গলের মাটিতে নেমে আসে নাসার ল্যান্ডার। এত বড় প্যারাশ্যুট পাঠিয়ে মঙ্গলের মাটিতে সফট ল্যান্ডিং এর আগে কখনও হয়নি।

মঙ্গলযান অবতরণের শেষ তিন মিনিট ২৫ সেকেন্ডের হাই-ডেফিনিশন ভিডিও ক্লিপ সামনে এনেছে নাসা। জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর মাইকেল ওয়াটকিনস বলেছেন, মঙ্গলের পরিমণ্ডলে ঢোকার সময়ের ভিডিও তোলা যায়নি। ল্যান্ড করার মুহূর্ত ও লাল মাটি ছোঁয়ার সেই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও তোলা সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলযান যে মুহূর্তে লাল মাটি ছুঁয়েছে, সে সময় যে শব্দ হয়েছে তার অডিও সামনে আনা হয়েছে। এর আগের কোনও মঙ্গলযাত্রায় লাল মাটির এমন শব্দ রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। সেদিন থেকে নজির গড়েছে নাসা।

NASA releases first audio from Mars, video of Perseverance rover landing -  The Hindu

NASA releases first audio from Mars, video of landing

মঙ্গলের মাটিতে নেমেই কাজ শুরু করে দিয়েছে পারসিভিয়ারেন্স রোভার।  চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যাডাম স্টেলজ়নার বলেছেন, ২ মিটার অর্থাৎ প্রায় ৬ ফুট উচ্চতা থেকে নামার সময় ফটাফট মঙ্গলের গিরিখাত ও গহ্বরের কয়েকটা ছবি তুলে নেয় রোভার। এখন যে জায়গায় রয়েছে পারসিভিয়ারেন্স তার নাম জেজ়েরো ক্রেটার, ১৮.৩৮ ডিগ্রি উত্তর ও ৭৭.৫৮ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত এই ক্রেটার। মনে করা হয় এই ক্রেটারের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। ক্রেটারের চারপাশের পাথুরে জমি, গিরিখাতের ছবি পাঠিয়েছে রোভার। ৪৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই গহ্বর বিরাট একটা বাটির মতো। এই ক্রেটারকে বলা হয় মঙ্গলের ডেল্টা। মনে করা হয় এখানে একসময় বড় বড় নদী বয়ে যেত। ক্রেটারের মাটিতেও জলের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। আর যেখানে জল, সেখানে প্রাণের জন্ম হওয়া স্বাভাবিক। কোটি কোটি বছর আগে যখন নদীরা বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, তখন এখানে আনুবীক্ষণিক জীবদের জন্ম হয়েছিল বলেই মনে করা হয়। পারসিভিয়ারেন্স এই ক্রেটারে ঘুরে ঘুরেই সেই হারিয়ে যাওয়া প্রাণের খোঁজ করবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More