৪৫ লক্ষ কোভিড ভ্যাকসিন নষ্ট হয়েছে, কেরল ও বাংলা গুড বয়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা টিকাকরণের দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে ভারত। তবে বিপুল পরিমাণ টিকার অপচয়ও হচ্ছে দেশে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দেখা গেছে, গত ১১ এপ্রিল অবধি দেশে যে পরিমাণ টিকার বিতরণ ও ব্যবহার হয়েছে তার অন্তত ২৩ শতাংশই নষ্ট হয়েছে। আর এই অপচয়ের তালিকায় শীর্ষেই রয়েছে তামিলনাড়ু। সেদিক থেকে বরং কেরল ও পশ্চিমবঙ্গ ‘গুড বুক’-এ আছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, মনিপুর ও তেলঙ্গানায় টিকা অপচয়ের পরিমাণ বিপুল। মোট হিসেব করলে দেখা যাবে ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার টিকার ডোজ স্রেফ নষ্ট হয়েছে।

দেশে আজ অবধি ১২ কোটি মানুষের টিকাকরণ হয়েছে। ১১ এপ্রিল অবধি কম করেও ১০ কোটির টিকার ডোজ ব্যবহার হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪৫ লক্ষ ডোজ নষ্ট হয়ে যাওয়া কম কথা নয়। বিশেষত দেশে যখন করোনা সংক্রমণ বাড়ছে এবং বেশ কিছু রাজ্যে টিকার ভাঁড়ারে টান পড়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের একাধিক রাজ্য করোনা টিকার সরবরাহ নিয়ে সরব হতে শুরু করেছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত টিকা সরবরাহ করার বিষয়ে আবেদন জানিয়েছে। তার মধ্যেই টিকার এই বিপুল অপচয় চিন্তা বাড়াচ্ছে। অপচয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে মহারাষ্ট্রও। সে রাজ্যের সরকারের বিরুদ্ধেই টিকার অপচয়ের অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

তবে এসবের মধ্যেও ভাল ছবি দেখা গেছে কয়েকটি রাজ্যে। কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, হিমাচল প্রদেশ, মিজোরাম, গোয়া, দমন ও দিউ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে টিকা অপচয়ের পরিমাণ প্রায় শূন্য। বাংলাতেও কোভিড সংক্রমণ বাড়ছে। টিকাকরণও চলছে সমান তালে। কিন্তু বাংলা থেকে এখনও অবধি টিকা অপচয়ের অভিযোগ শোনা যায়নি। সেদিন থেকে এ রাজ্য এখনও ভাল তালিকায় আছে।

টিকাকরণে গতি আনতে আগামী ১ মে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলকেই টিকা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছে সরকার। প্রবীণ ও কোমর্বিডিটির রোগীদের টিকাকরণ যেমন চলছিল তেমনই চলবে, পাশাপাশি কমবয়সীদেরও টিকার ডোজ দেওয়া হবে। তাই এই সময় টিকার বিপুল পরিমাণ যোগান থাকা দরকার। সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনের পাশাপাশি রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকাও বাজারে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত জুলাই মাস অবধি সেরাম ও ভারত বায়োটেককে টিকার উৎপাদন বাড়াতে বলেছে। তার জন্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেরাম ইতিমধ্যেই তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ পেয়েছে, ভারত বায়োটেককে দেওয়া হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। টিকার সঙ্কট কাটাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More