নাগরোটা টোল প্লাজায় পুলিশের উপর হামলা, বিস্ফোরণ, পাল্টা গুলিতে ঝাঁঝরা তিন জঙ্গি

ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয়েছে গুলির লড়াই। শ্রীনগরগামী ট্রাকে চেপে পালাচ্ছিল জঙ্গিরা। টোলপ্লাজায় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোররাত থেকেই ফের অশান্ত উপত্যকা। তীব্র গুলি বিনিময় জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েতে। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় জঙ্গিরা। পাল্টা প্রত্যাঘাত হানে পুলিশও। গুলির লড়াইতে তিন সন্ত্রাসবাদীর খতম হওয়ার খবর মিলেছে। গুরুতর জখম এক পুলিশকর্মীও।

জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে নাগরোটার কাছে পুলিশের টহলদারি ভ্যানের উপর আচমকাই গুলি চালায় জঙ্গিরা। পুলিশ সূত্রে খবর, তিন থেকে চার জন সন্ত্রাসবাদী একটি ট্রাকে চেপে হাইওয়ে ধরে পালাবার মতলবে ছিল। ট্রাক বোঝাই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকে। টোল প্লাজার কাছাকাছি আসতেই পুলিশের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। গুলিতে জখম হন এক পুলিশকর্মী। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও।

পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীনগরগামী একটি ট্রাকে সফর করছিল সন্ত্রাসবাদীরা। ভোর পাঁচটা নাগাদ নাগরোটা টোল প্লাজার চেকিং পয়েন্টে ট্রাকটি থামায় পুলিশ। তখনই তাদের উপর গুলি চালাতে শুরু করে সন্ত্রাসবাদীরা।

ঘণ্টাখানেক ধরে চলে এই গুলির লড়াই। টোল প্লাজা লক্ষ্য করে বোমা ছুড়তে থাকে জঙ্গিরা। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল দিলবাগ সিং বলেছেন, তিন জঙ্গি খতম হয়েছে। মনে করা হচ্ছে কাঠুয়া, হিরানগর সীমান্ত দিয়ে ঢুকেছিল। উপত্যকার জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক পৌঁছে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল তাদের। ট্রাক থেকে প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৫০ জঙ্গি নিকেশ, একাধিক এনকাউন্টার, প্রজাতন্ত্র দিবসে পুরস্কৃত সিআরপিএফের ‘গানস্লিঙ্গার’ নরেশ কুমার

সকালের এনকাউন্টারের পরে জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ে বেশ কয়েকঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজি মুকেশ সিং জানিয়েছেন, হাইওয়ের ধারে জঙ্গলের ভিতরে জঙ্গিদের গা ঢাকা দিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আরও তিন-চার জন সন্ত্রাসবাদী লুকিয়ে রয়েছে জাতীয় সড়কেরই আশপাশে। তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, নতুন করে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটছে উপত্যকায়। দিনকয়েক আগেই অবন্তীপোরায় জঙ্গি দমন অভিযানে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন দুই জওয়ান। তার পাল্টা জইশের মোস্ট ওয়ান্টেড কম্যান্ডার আবু সইফুল্লা ও তার সঙ্গী আবু কাসিমকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ ও রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জওয়ানরা। এনআইএ জানিয়েছে, অবন্তীপোরায় নতুন করে ঘাঁটি তৈরি করেছে জইশ-ই-মহম্মদ। যার মাথা ছিল আবু সইফুল্লা। পাকিস্তানের জইশ শিবির থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সইফুল্লা ত্রাল ও অবন্তীপোরায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে জইশের মাথা হয়ে বসেছিল। সইফুল্লা খতম হওয়ার পরে উপত্যকায় জঙ্গি তৎপরতা আরও বেড়েছে। নতুন করে নাশকতার ছক কষা চলছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More