চার জইশ জঙ্গি নিকেশ জম্মুতে, ট্রাকে গা ঢাকা দিয়েছিল, ঝাঁঝরা করে দিল সেনা

গতকাল পুলওয়ামায় গ্রেনেড হামলা চলে। এরপরে দক্ষিণ কাশ্মীরের আরও কয়েকটি জায়গায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ ভোর থেকে জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েতে তাণ্ডব শুরু করে জঙ্গিরা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোর থেকেই উত্তপ্ত জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কের কাছে নাগরোটার টোল প্লাজা এলাকা। পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছিল জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দিতে আসরে নামে সেনাবাহিনী। শুরু হয়ে যায় তুমুল গুলির লড়াই। দুপুর পর্যন্ত সেনা সূত্রে খবর মিলেছে, চার জঙ্গি নিকেশ হয়েছে সেনার গুলিতে। মনে করা হচ্ছে এই চার জঙ্গিই জইশ গোষ্ঠীর। প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তাদের কাছ থেকে।

গতকাল পুলওয়ামায় গ্রেনেড হামলা চলে। এরপরে দক্ষিণ কাশ্মীরের আরও কয়েকটি জায়গায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ ভোর থেকে জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েতে তাণ্ডব শুরু করে জঙ্গিরা।

আইজিপি (জম্মু) মুকেশ সিং বলেছেন, নাগরোটার বান টোল প্লাজার কাছে একটি ট্রাকে গা ঢাকা দিয়ে পালাবার চেষ্টায় ছিল জঙ্গিরা। মনে করা হচ্ছে উপত্যকায় বড়সড় নাশকতা বাঁধানোর লক্ষ্য ছিল তাদের। বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল তাদের কাছে। টোল প্লাজায় চেকিং শুরু হলেই পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশবাহিনীও। এরপরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিআরপিএফ।

শুরু হয় আরও এক দফা গুলির লড়াই। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ট্রাকটিকে ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলা হয়। কোণঠাসা হয়ে পড়ে জঙ্গিরা। মরিয়া হয়ে গুলি চালাতে থাকে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, চারজন জঙ্গি ছিল ওই ট্রাকে। চারজনকেই খতম করা হয়েছে। তবে কোনও জঙ্গি গা ঢাকা দিয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাক থেকে ১১টি একে-৪৭ রাইফেল, তিনটি পিস্তল, ২৯টি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ে আপাতত বন্ধ। নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে নাগরোটা এলাকা।

জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরেই অন্তত ২০০ জঙ্গিকে নিকেশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। যাদের মধ্যে দু’জন প্রতাপশালী হিজবুল কম্যান্ডার। নিয়ন্ত্রণরেখায় লাগাতার পাক সেনার সংঘর্ষবিরতির মাঝেই একের পর এক জঙ্গি নিধন অভিযানে সাফল্য এসেছে ভারতীয় সেনার। গত মাসেই পুলওয়ামায় সেনার গুলিতে খতম হয়েছে হিজবুলের অপারেশনাল কম্যান্ডার সইফ উল ইসলাম ওরফে ডক্টর সৈফুল্লাহ। কাশ্মীরে হিজবুল গোষ্ঠীর সক্রিয় কম্যান্ডার ছিল সৈফুল্লাহ। রিয়াজ নাইকুর হত্যার পরে হিজবুলের নেটওয়ার্ক ছিল তারই হাতে। এই কম্যান্ডারের মৃত্যু নিঃসন্দেহে জঙ্গি গোষ্ঠীতে একটা বড় ধাক্কা। জম্মু-কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ বলেছেন, রিয়াজ নাইকু খতম হওয়ার পরে কাশ্মীরে হিজবুল গোষ্ঠী শুধু নয় অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের অন্তত ২০০ জনকে খতম করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে পাক মদতপুষ্ট প্রায় আড়াইশো জঙ্গি। সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ন্ত্রণরেখা পার করিয়ে দিতে লাগাতার সংঘর্ষ বিরতি ভেঙে চলেছে পাক সেনারা। কিছুদিন আগেই নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্ষবিরতি ভেঙে নির্বিচারে গোলাগুলি চালায় পাক সেনারা। নিয়ন্ত্রণরেখা লাগোয়া একাধিক গ্রামকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়। পাক সেনার গুলিতে শহিদ হন চার ভারতীয় জওয়ান, প্রাণ যায় সাধারণ মানুষেরও। এরপরেই মোক্ষম জবাব দেয় ভারতীয় বাহিনী। অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল, রকেট ছুড়ে নাস্তানাবুদ করা হয় পাক বাহিনীকে। ভারতীয় সেনার ছোড়া মিসাইলে সীমান্তের ওপারে পাক সেনাদের একাধিক লঞ্চ প্যাড ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে বলে খবর। গুঁড়িয়ে গিয়েছে একাধিক জঙ্গি শিবিরও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More