৫০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী থেকে জলকামান, ‘চাক্কা জ্যাম’ প্রত্যাহার হলেও দূর্গের চেহারা নিল দিল্লি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে চাক্কা জ্যাম কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। কিন্তু তারপরেও কোনও রকমের ঝুঁকি নিতে চাইছে না দিল্লি প্রশাসন। তাই নির্দিষ্ট বন্দোবস্ত নিয়েছে তারা। দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী। এছাড়া তৈরি রাখা হয়েছে জলকামান।

শুক্রবার কৃষকদের সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা জানায়, শনিবার বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টে অবধি চাক্কা জ্যামের যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল তা দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বদলে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের স্মারকলিপি জমা দেবে আন্দোলকারী কৃষকরা।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকাইত বলেন, “দিল্লিতে এমনিতেই রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ। আন্দোলন স্থলগুলিতে জল, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। এর পরে আর চাক্কা জ্যাম করে সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করার মানে হয় না। বরং নিজেদের অধিকারের কথা বলা হবে অন্য উপায়ে।” অবশ্য দেশের বাকি জায়গায় এই কর্মসূচি চলবে।

কিন্তু কোনও রকমের ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লি প্রশাসন। অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারিকেড আরও মজবুত করা হয়েছে। বেশি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে গাজিপুর সীমান্তে। সেখানে মোতায়েন রাখা হয়েছে জলকামান। সেইসঙ্গে লালকেল্লার বাইরেও বিশেষ সুরক্ষা বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে লালকেল্লায় বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়ার ফলেই এই অতিরিক্ত ব্যবস্থা।

জানা গিয়েছে, ৫০ হাজার পুলিশ, আধা সেনা ও রিজার্ভ ফোর্সের আধিকারিকদের মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির অন্তত ১২টি মেট্রো স্টেশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কোনও ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাতে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছড়ানো না হয় সেদিকে নজর দিচ্ছে দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল। ইতিমধ্যেই সিঙ্ঘু, টিকরি ও গাজিপুর সীমান্তে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে দূর্গের চেহারা নিয়েছে রাজধানী।

প্রজাতন্ত্র দিবসের ওই ট্র্যাক্টর মিছিলের পরে কৃষক সংগঠনগুলির মঞ্চ, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ১ ফেব্রুয়ারি সংসদ অভিযানেরও ডাক দিয়েছিল। কিন্তু ট্র্যাক্টর মিছিল থেকে লাল কেল্লায় হিংসা ছড়ানোর পরে সেই অভিযান বাতিল করা হয়। তার পরেই সোমবার সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি হিসেবে আগামী শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত ৩ ঘণ্টার ‘চাক্কা জ্যাম’-এর ঘোষণা করে কৃষক সংগঠনগুলি।

কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত ও বলবীর সিং বলেছেন, কৃষকরা যে জায়গাগুলিতে অবস্থান করছেন, সেখানে পুলিশ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। জল ও বিদ্যুতের সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা পুলিশ দিল্লির সীমানায় পুলিশ লোহা ও কংক্রিটের ব্যারিকেড তৈরি করে কাঁটাতার দিয়ে আন্দোলনের জায়গাগুলি ঘিরে ফেলেছে। মাটিতে পেরেক পুঁতে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ স্থলগুলিতে জল সরবরাহ বন্ধ, তার থেকে দূষণ ছড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।  কৃষক নেতাদের অভিযোগ, শৌচালয়ে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।  এইসবের প্রতিবাদেই চাক্কা জ্যাম-এর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সোমবার পেশ হওয়া বাজেট নিয়েও কৃষকরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাজেটে কৃষির উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত বলেছেন, “চাক্কা জ্যামের পরিবর্তে শনিবার বিকেল ৩টে নাগাদ আন্দোলনকারী সব কৃষকরা একজোট হয়ে টানা এক মিনিট ধরে গাড়ির হর্ন বাজাবেন। আমরা অনুরোধ করছি সাধারণ মানুষকেও আমাদের পাশে থাকতে। এইভাবেই অহিংস পথে প্রতিবাদ করব আমরা।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More