শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে তেলুগু অভিনেত্রীর দেহ, ফোনের কল রেকর্ড ঘেঁটে তাজ্জব পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দরজায় বার বার কলিং বেল বাজিয়েও সাড়া পাননি অভিনেত্রীর ভাই দুর্গা প্রসাদ। শেষে দরজা ভেঙেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। সিলিং ফ্য়ান থেকে তখন ঝুলছে তাঁর বোনের নিথর দেহ। পরনের কাপড়ই গলায় ফাঁস দিয়ে জড়ানো।

বছর একুশের ওই অভিনেত্রীর নাম নাগা ঝাঁসি। তেলুগু ছবি ও টিভি ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ। ‘পবিত্র বন্ধন’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের পরই লাইমলাইটে চলে আসেন তিনি। অভিনয় করেছেন বেশ কিছু ছবিতেও।

অভিনেত্রীর ভাই দুর্গা প্রসাদ জানিয়েছেন, হায়দরাবাদের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন ঝাঁসি। তিনি ও পরিবারের অন্যরা মাঝে মাঝে তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেতেন।  মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তিনি বোনের সঙ্গে দেখা করতে যান। আগে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে ঝাঁসি ফোন তোলেননি। বাড়িতে এসে বার বার কলিং বেল বাজিয়েও সাড়া না মেলায় সন্দেহ হয় তাঁর। আবাসনের লোকজন ডেকে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছেন ঝাঁসি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। তবে অভিনেত্রীর ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফোনের কল ও চ্যাট রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে এক ব্য়ক্তির সঙ্গে চ্য়াটে কথা বলছিলেন ঝাঁসি।

অভিনেত্রীর আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ঝাঁসির। চ্য়াটে তাঁদের নিয়মিত কথাও হত। ছ’মাস ধরে চলছিল এই প্রেমপর্ব। তবে ঝাঁসির পরিবারের লোকজন এই সম্পর্ক মেনে নেননি। এই নিয়ে পরিবারে অশান্তিও চলছিল। তাই মানসিক ভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন ঝাঁসি।

পুলিশ জানিয়েছে, গান্ধী হাসপাতালে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্য়ার ঘটনা মনে হলেও মৃত্য়ুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই সেটা স্পষ্ট হবে। ফোনের বাকি কল রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখছে পুলিশ। মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মঘাতী হয়েছেন নায়িকা নাকি এই মৃত্য়ুর পেছনে অন্য় কোনও কারণ রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.