সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারকাজ শুরু করল বায়ুসেনার চিনুক হেলিকপ্টার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডে হিমবাহ গলা জলের ফলে হওয়া বন্যায় তপোবন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নীচে একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধারকাজ এখনও শেষ হয়নি। তার জন্য দিন-রাত কাজ চলছে। কিন্তু সুড়ঙ্গের উপরে পড়ে রয়েছে কয়েকশ টনের পাথরের স্তূপ। সেই বোল্ডার সরিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। ভিতরে অন্তত ৩৪ জন আটকে রয়েছে বলে খবর। এই কাজে এবার কাজে লাগানো হল ভারতীয় বায়ুসেনার চিনুক সিএইচ-৪৭এফ হেলিকপ্টারকে।

সেনা সূত্রে খবর, এই উদ্ধারকাজের জন্য সরঞ্জাম থেকে শুরু করে উদ্ধারকারীদের নিয়ে আসার কাজ খুব সহজেই করতে পারে এই হেলিকপ্টার। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১৪ কর্মী ও ১৪০০ কেজি সামগ্রী নিয়ে আসা হয়েছে এই হেলিকপ্টারে করে। সেইসঙ্গে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের তিন টন সামগ্রী ও পাঁচ কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উদ্ধার স্থলে। উদ্ধারের কাজ যাতে আরও দ্রুত করা যায় তার জন্যই এই পদক্ষেপ।

সেনা জওয়ান ও যুদ্ধের সরঞ্জাম দ্রুত নিয়ে যাওয়ার জন্য আমেরিকার কাছ থেকে এই হেলিকপ্টার কিনেছে ভারত। চলতি বছরই মার্চ মাসে এই হেলিকপ্টার যোগ দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীতে। ২০১৫ সালে আমেরিকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ডলারের যে চুক্তি হয়েছিল তারই আওতায় ১৫টি চিনুক হেলিকপ্টার ভারত পেয়েছে। তার মধ্যেই একটিকে পাঠানো হয়েছে উদ্ধারের কাজে। এছাড়া আরও ২২টি এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচে লংবো হেলিকপ্টার পেয়েছে ভারত।

এর আগে কোভিড সংক্রমণ মোকাবিলার জন্য অরুণাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছিল এই চিনুক হেলিকপ্টারগুলি।

এখনও সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের বের করা সম্ভব হয়নি। উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের এক আধিকারিক পীযূষ রাওতেলা জানিয়েছেন, “সময় পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও কমছে। যদিও আশ্চর্য ঘটনাও ঘটে। আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। একসঙ্গে বেশি বুলডোজার আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। আমরা দিন-রাত কাজ করছি। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ এত বেশি যে সব সরানো সম্ভব হচ্ছে না।”

সীমান্ত পুলিশের এক মুখপাত্র বিবেক পাণ্ডে জানিয়েছেন, যদি ৩৪ জন বেঁচে থাকেন তাহলে তাঁদের শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া নিয়েই ভয়ে রয়েছি আমরা। বাইরে মেডিক্যাল টিম তৈরি রয়েছে। একবার তাঁদের বের করতে পারলে আর সমস্যা হবে না।

টানেলের বাইরে অপেক্ষা করছেন আরও অনেক কর্মী যাঁরা ভাগ্যের জোরে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু সহকর্মীদের জন্য চিন্তিত তাঁরা। কারণ তাঁরা জানেন, ধীরে ধীরে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। আর তার সঙ্গেই কমছে আটকে থাকা কর্মীদের বেঁচে থাকার আশাও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More