বৈদিক গণিতের বাস্তব ভিত্তি নেই, শিক্ষায় খারাপ প্রভাব ফেলছে, বললেন অর্মত্য সেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যের নামে বৈদিক গণিত এক কল্পনার জগতের জন্ম দেয়, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক তো করবেই না, বরং পিছিয়ে নিয়ে যাবে অনেকটাই। এমনটাই দাবি করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বৈদিক গণিতের পাঠক্রম চালু করার ব্যপারে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে আরএসএস। এবার তারই বিরোধিতায় মুখ খুললেন অমর্ত্য সেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বৈদিক গণিতের পাঠ খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে দাবিও করেন তিনি।

অমর্ত্য সেনের কথায়, “শিক্ষাব্যবস্থায় ভারতীয়করণের নামে বিজ্ঞান ও গণিতের পাঠে যে বদল আনার চেষ্টা চলছে সেটা শুধুমাত্র দেশের নেতামন্ত্রীদেরই খুশি করবে। আধুনিক বিশ্ব থেকে অনেকটাই পিছিয়ে নিয়ে যাবে দেশের বিজ্ঞান গবেষণাকে।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে গণিত ও বিজ্ঞানের যে সূত্রগুলিকে মেনে চলা হয়, বৈদিক গণিত তার থেকে অনেকটাই আলাদা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাল্পনিক। সেইসব সূত্রের চর্চা যদি শুরু হয়, তাহলে আধুনিক গবেষণার সঙ্গে আরও কোনও সম্পর্কই থাকবে না।

নতুন শিক্ষানীতির খসড়া নিয়ে হইচই এখনও থামেনি। শিক্ষা ব্যবস্থার গলদ খুঁজে বহুদিন ধরেই তার সংস্কারের দাবিতে সরব আরএসএস। ইংরেজির উপর ‘অযৌক্তিক’ নির্ভরতা কমানো থেকে বিদ্যালয়ে বৈদিক গণিত চালু করার মতো প্রস্তাব আগেও দিয়েছিলেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। স্কুলের সিলেবাসে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বৈদিক গণিত চাবু করার জন্য ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিআরআইটি)-এ সুপারিশ করেছিল আরএসএস। উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি সরকারি স্কুলে বহু আগেই থেকেই বৈদিক গণিত পড়ানো হয় ছাত্রছাত্রীদের।

অমর্ত্য সেন বলেন, বৈদিক গণিত পড়ানোর নামে হিন্দুত্ববাদীরা দাবি করছেন আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার অধিকাংশই ভারতীয় মুনি-ঋষিরা অনেক আগেই আবিষ্কার করে ফেলেছেন। বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বকে তুলে ধরতে গিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের বলেন, “গণিতচর্চায় প্রাচীন ভারতের অবদান আছে মানছি। তবে গণিতের স্বর্ণযুগ যে সময়টাকে বলা হয় সেটা কিন্তু বৈদিক যুগ নয়। অথচ হিন্দুত্ববাদীরা সেই মিথ্যা দাবিই করে আসছেন।” ৮৬ বছরের অর্থনীতিবিদের কথায়, ভারতীয় গণিতের পথপ্রদর্শক আর্যভট্ট কিন্তু বৈদিক যুগের নন। তিনি গণিতকে যে মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন পরে সেই ধারা বজায় রাখেন ব্রহ্মগুপ্ত, ভাস্কর-সহ অন্য ব্যক্তিত্বরা। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করার বদলে যদি মনে করা হয় প্রাচীন ভারতের সব গবেষণা ও আবিষ্কার ঋষিমুনিদের কৃতিত্বে হয়েছে, তাহলে তো গোড়ায় গলদ থেকে যায়!  অমর্ত্য সেনের মতে, বৈদিক গণিতকে প্রকৃতঅর্থে গণিত বলা যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে এর সঙ্গে বৈদিক যুগের কোনও সম্পর্ক নেই, গোটাটাই বিভ্রান্তিকর।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More