কৃষক বিক্ষোভের জেরে নামতে পারল না খট্টরের হেলিকপ্টার, ফিরে গেলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে কৃষক আন্দোলনের মাঝে রবিবার হরিয়ানার কার্নালে বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য যান হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। এই বৈঠকের জন্য একটি সভামঞ্চও তৈরি করা হয়। কিন্তু কথা বলতে রাজি হননি কৃষকরা। বরং যেখানে খট্টরের হেলিকপ্টার নামা ও বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভের জেরে নামতেই পারেনি মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। কথা না বলেই ফিরে যান তিনি। এমনকি সভামঞ্চেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে খবর।

সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সরকার যে তিনটি কৃষি আইন পাশ করেছে তার সুফল সবাইকে জানানোর জন্য একটি কিষাণ মহাপঞ্চায়েত ডাকা হয় কার্নালে। এই বৈঠকের আগে সেখানে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ। যাতে কোনও রকমের বিক্ষোভের মুখে মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীদের পড়তে না হয় তার পুরো বন্দোবস্ত করা ছিল।

কিন্তু দিনের শুরু থেকেই কৃষকরা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা কিছু শোনার বা আলোচনার মানসিকতায় নেই। দুপুরের মধ্যে শয়ে শয়ে কৃষকদের মিছিল টোল প্লাজার কাছে আটকায় পুলিশ। জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়লেও ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান কৃষকরা। যেখানে সভামঞ্চ করা হয়েছে সেখানে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন তাঁরা।

ঘটনার পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে খট্টর বলেন, “প্রায় ৫ হাজার মানুষ আমার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সেটা হল না। বিক্ষোভের সামনে আমি আমার হেলিকপ্টারকে ফিরে আসতে বলি। কারণ আমি চাইনি পরিস্থিতি আরও খারাপ হোক।”

এই বিক্ষোভের পিছনে বিরোধী দল কংগ্রেসের মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মনোহর লাল খট্টর। তিনি বলেন, “আমি বলতে চাই ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। তাই কোনও কিছুর সমর্থনে যেমন লোক থাকে, তেমনই বিরুদ্ধেও থাকে। আমাদের মনোভাব প্রকাশ ও কথা বলার স্বাধীনতা আমাদের আছে। তাই কাউকে কথা বলা থেকে আটকানো উচিত নয়। আমরা কাউকে বিক্ষোভ করা থেকে আটকাচ্ছি না। কংগ্রেস গণতন্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।”

এর আগে রবিবার সকালে কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা টুইট করে বলেন, “মনোহর লালজি, দয়া করে কেমলা গ্রামে এই কিষাণ মহাপঞ্চায়েতের নাটক বন্ধ করুন। যাঁরা আমাদের খাবার দেন, তাঁদের মন নিয়ে খেলা করবেন না। আইনশৃঙ্খলার আর অবনতি হতে দেবেন না। যদি আপনার কথা বলার দরকার হয় তাহলে যাঁরা ৪৬ দিন ধরে অনশন করছেন, তাঁদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলুন।”

কেন্দ্রের আনা তিনটি কৃষি আইনের বিরোধিতা যে কৃষকরা করছেন তাঁদের মধ্যে সিংহভাগই পাঞ্জাব ও হরিয়ানার। এর আগে যখন কৃষকরা মিছিল করে দিল্লির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তখনও তাঁদের ব্যারিকেড করে, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে কিংবা লাঠিচার্জ করে আটকানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল খট্টর প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যদিও তাতে মিছিল থামেনি। দিল্লি গিয়েই থেমেছিলেন কৃষকরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More