সংক্রমণের মাঝেই কুম্ভে যোগ দিচ্ছেন লাখ লাখ পুণ্যার্থী, সুরক্ষা বন্দোবস্ত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে কুম্ভ মেলা। ইতিমধ্যেই এই মেলা উপলক্ষ্যে হরিদ্বারে ঢুকতে শুরু করেছেন পুণ্যার্থীরা। প্রতিবার এই মেলায় কয়েক লাখ পুণ্যার্থী যান। এবার করোনা সংক্রমণের মধ্যে সেই সংখ্যা কমবে বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার থেকেই যা ভিড় শুরু হয়েছে তাতে মনে করা হচ্ছে ভিড় বিশেষ কিছু কম হবে না। আর তাই ফের প্রশ্ন উঠেছে, মেলা স্থলে সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিক আছে তো? নইলে ফের সংক্রমণ বাড়তে পারে তো।

বিশ্বে আমেরিকার পরেই সবথেকে বেশি আক্রান্ত ভারতে। গত মাসখানেক ধরে ছবিটা অবশ্য খানিকটা অন্যরকম। দৈনিক সংক্রমণ কমেছে। অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও দু’লাখের সামান্য বেশি। কিন্তু এখনও সংক্রমণ শেষ হয়নি। আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে শুরু হবে টিকাকরণ। তাই এখনও সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলছে কেন্দ্র। কিন্তু তারপরেও কীভাবে এত বড় মেলার অনুমতি দেওয়া হল সেটা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

উদ্যোক্তাদের তরফে সিদ্ধার্থ চক্রপাণি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “অতিমারী নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে। কিন্তু আমরা সব ধরনের সতর্কতা নিয়েছি। বৃহস্পতিবারই শুধু ৮ থেকে ১০ লাখ লোক হতে পারে। আমি নিশ্চিত মা গঙ্গা সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।”

২০১৯ সালে এলাহাবাদে কুম্ভ মেলায় ৪৮ দিন ধরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি পুণ্যার্থী গিয়েছিলেন। এবছর হরিদ্বারে হচ্ছে মেলা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ৭ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন কয়েক লাখ জন সমাগম হতে পারে। বুধবার থেকেই গঙ্গার ধারে থাকার আস্তানা বানানো শুরু করে দিয়েছেন পুণ্যার্থীরা। সাধুদের আখাড়া তো আছেই, তার সঙ্গে পুণ্যার্থী ও বিক্রেতারাও তাঁবু খাটাচ্ছেন। আর তাতেই সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি বাড়ছে।

পুণ্যার্থীরা কিন্তু সংক্রমণকে খুব একটা বেশি পাত্তা দিতে নারাজ। সঞ্জয় শর্মা নামের ৫০ বছরের এক পুণ্যার্থী জানিয়েছেন, “ভারত ইউরোপের মতো নয়। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। শুধুমাত্র হাঁচি, কাশির জন্য কুম্ভে আগের মতো পুণ্যার্থী আসবেন না সেটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। সবাইকে একদিন মরতে হবে। তাহলে ভয় পেয়ে বেঁচে থেকে কী লাভ?”

ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগরে মেলার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। কিন্তু সেখানে অনেক শর্তের কথা বলা হয়েছে। ই-স্নানের উপর জোর দিতে বলা হয়েছে পুণ্যার্থীদের। সেইসঙ্গে প্রশাসনকে একাধিক বন্দোবস্ত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু গঙ্গাসাগরের থেকে অনেক গুণ বেশি পুণ্যার্থী যান কুম্ভে। আর তাই এই মেলা শুরু হওয়ার আগেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More