শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

সরকার বিরোধী মন্তব্য! বক্তৃতার মাঝেই থামানো হলো অমল পালেকরকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন। বক্তৃতার সময় সরকারেরই সমালোচনা শুরু করলেন। আর সেইজন্য বক্তৃতার মধ্যেই বারবার বাধা দেওয়া হলো বর্ষীয়ান অভিনেতা, প্রযোজক ও চিত্রশিল্পী অমল পালেকরকে।

শুক্রবার কেন্দ্র সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে ‘ন্যাশনাল গ্যালরি অফ আর্ট’-এ চিত্রশিল্পী প্রভাকর বারওয়ের স্মৃতিতে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ইনসাইড দ্য এম্পটি বক্স’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। প্রয়াত শিল্পী প্রভাকর বারওয়ের স্মৃতিচারণায় বক্তব্য রাখছিলেন অমল পালেকর। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ”একসময় ন্যাশনাল গ্যালারিতে কোন প্রদর্শনী হবে তা স্থানীয় শিল্পীদের কমিটিই সিদ্ধান্ত নিত, সরকারের কোনও প্রতিনিধিরা নিত না। আর এখন একতরফা ভাবেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিজের হাতে নিয়েছে কেন্দ্র। যতদূর আমি শুনেছি ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর মুম্বই ও বেঙ্গালুরুর রিজিওনাল উপদেষ্টা কমিটিকেও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”

পালেকরের বক্তব্যের মধ্যেই আপত্তি জানান শিল্পী সুহাস বাহুলিকর ও ন্যাশনাল গ্যালারির বর্তমান কর্ণধার অনীতা রূপাভাতরম। অনীতার বক্তব্য, ‘‘শিল্পীদের কমিটি ভাঙা  নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা আগেই সরকারকে জানানো হয়েছে। এখানে আপনার শিল্পী প্রভাকর বারওয়ের সম্পর্কেই বলার কথা। আপনি সেটাই বলুন।’’ তার উত্তরে পালেকর বলেন, ‘‘আমি সেই ব্যাপারেই কথা বলছি। এগুলো সব একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। আপনারা কি আমার বক্তৃতার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন?’’

তারপর এই বর্ষীয়ান অভিনেতা তুলে আনেন সাহিত্যিক নয়নতারা সেহগালের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, সম্প্রতি, মারাঠি সাহিত্য সম্মেলনে বলতে আমন্ত্রণ জানানোর কথা ছিল সাহিত্যিক নয়নতারা সেহগালকে। তবে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর বক্তব্য রাখতে চলেছেন জানাতে পেরে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এখানেও কি আমরা সেই একই পরিস্থিতি তৈরি করছি।”

এই গোটা ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রের সমালোচনা শুরু হয়। সবাই বলতে থাকেন, একজন বর্ষীয়ান অভিনেতা নিজের মত প্রকাশ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের সহনশীলতা কোথায় গেল। সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। সিপিএম-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি টুইট করে জানিয়েছেন, “আমাদের সংবিধান প্রত্যেককে এই অধিকার দিয়েছেন যে তাঁরা চাইলে সরকারের সমালোচনা করতেই পারেন। কেউই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তাই অমল পালেকরকে যেভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।”

কংগ্রেসের তরফেও টুইট করে জানানো হয়েছে, যেভাবে বারবার অমল পালেকরকে থামানো হয়েছে, তা খুবই লজ্জার।

আরও পড়ুন

‘খুনিরা শাস্তি পাবে’, কৃষ্ণগঞ্জের নিহত বিধায়কের স্ত্রীকে ফোন মমতার

Shares

Comments are closed.