শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

‘দুর্নীতিবাজদের’ ক্লাবের নেত্রী হতে চাইছেন মমতা, বেআইনি টাকার লেনদেন ধরা কিন্তু এখন খুব সোজা: জেটলি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশে সুবিদিত। অথচ, কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে সিবিআইয়ের অতর্কিত হানার ঘটনা নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে অবস্থান নিয়েছেন, তাকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন অরুণ জেটলি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেটলি এখন চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় রয়েছেন। সেখানে বসেই এ দিন একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি তৃণমূলনেত্রী সম্পর্কে রাজনৈতিক ভাবে যা তা মন্তব্য করেন।

জেটলি বলেছেন, সর্বভারতীয় স্তরে দুর্নীতিবাজদের এখন একটা ক্লাব তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন এই ক্লাবের নিউক্লিয়াস হয়ে উঠতে। তাঁর কৌশল হল, বিরোধী শিবিরে তাঁর বন্ধুদের ম্লান করে দিয়ে সেন্টার স্টেজ দখল করা। এই পোস্টের একটি অংশে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই অরুণ জেটলি লিখেছেন, প্রযুক্তির কারণে বেআইনি লেনদেন ধরে ফেলা এখন কিন্তু খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। এতোটাই, যে কোনওরকম বেআইনি লেনদেন করলে তার ছাপ থেকেই যাবে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তরে গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি এর ফলে সহজেই বেআইনি অর্থনৈতিক দুর্নীতি ধরে ফেলতে পারে। এ কথা বলে জেটলি কী বার্তা দিতে চেয়েছেন, মঙ্গলবার ওয়াকিবহাল মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে তা নিয়েও।

আরও পড়ুন: ‘আমি ইচ্ছা করেই রবার্টকে ছাড়তে গিয়েছিলাম’ দায়িত্ব নিয়েই স্ট্রেট ব্যাটে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রিয়াঙ্কার 

কিছুদিন আগেই একটি ব্লগ লিখে জেটলি মমতা সম্পর্কে আক্রমণাত্মক হয়েছিলেন। তাতে বলেছিলেন, স্থায়িত্বের বিষয়টি এদের (পড়ুন তৃণমূলের) ডিএনএ-তেই নেই। সিবিআই গোয়েন্দাদের আটকে দেওয়া, তাদের হেনস্তা করা, মুখ্যমন্ত্রীর ধর্ণায় বসে পড়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জেটলি বলেছেন, ভারত আর কোনওরকম অস্থিরতার জন্য ঝুঁকি নেওয়ার অবস্থায় নেই। তাই একটা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা চলছে, আগামী ভোটে মানুষের পছন্দ কী হবে? নরেন্দ্র মোদী বনাম বিশৃঙ্খলা, নাকি মোদী বনাম অরাজকতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক অ্যাক্রোব্যাটিক্সই প্রমাণ করে দিচ্ছে, যে এই বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে দেশের কী পরিস্থিতি হতে পারে!

এখানেই থামেননি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রবিবার থেকে কলকাতায় যা হয়েছে তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত বা সাংবিধানিক সংকটের বাইরে কিছু বলা যায় না। তিনি বলেন, সিবিআইয়ের অফিসারদের বৈধ তদন্ত প্রক্রিয়া যে ভাবে গায়ের জোরে, তাদের হেনস্তা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে লঙ্ঘনের টেক্সটবুক উদাহরণ। একেবারে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উপর।

প্রসঙ্গত, মেট্রো চ্যানেলে মমতার সত্যাগ্রহ ধর্ণার মঞ্চে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের নেতারা এসেছিলেন। জেটলি তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও খুবই খোলাখুলি বিশদে অভিযোগ এনেছেন।

তবে জেটলি সম্পর্কে সোমবার থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জেটলির নাম মুখে না আনলেও তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপি-র ব্লগ মন্ত্রীর প্রবল বিদ্বেষ রয়েছে। মোদী-অমিত শাহ জুটি সেরা দুর্নীতিবাজ।

আরও পড়ুন: 

‘আমি ইচ্ছা করেই রবার্টকে ছাড়তে গিয়েছিলাম’, দায়িত্ব নিয়েই স্ট্রেট ব্যাটে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রিয়ঙ্কার

Shares

Comments are closed.